অধ্যাপক তানজিমের ‘ব্যক্তিগত তথ্যের’ খোঁজে বিভাগে প্রক্টরিয়াল টিম

ঢাবি প্রতিনিধি
১৯ অক্টোবর ২০২২, ২১:৫৫আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২২, ২২:০২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন খানের ‘পারসোনাল ফাইলের’ খোঁজে বিভাগের ব্যক্তিগত কক্ষে প্রক্টরিয়াল টিম গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া তার বাড়িতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে খোঁজ নিতে পাঠানো হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, ১৭ অক্টোবর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিরাপত্তাসহ আবাসিক হলগুলোকে শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব করে তোলার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষে ভিসির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ২ ঘণ্টা পর প্রক্টরিয়াল টিম তার কক্ষে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্যের খোঁজখবর নেয়।  

এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন খান ফেসবুকে পোস্ট দেন। তবে মূল ঘটনা উল্লেখ না করে তিনি বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করেছেন এবং এ ঘটনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ‘শব্দ সন্ত্রাস’ বলে মন্তব্য করেন। 

বুধবার (১৯ অক্টোবর) অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই অভিযোগ করেন। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে উপাচার্য বরাবর লিখিত চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠির  দুটি অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও পাঠান।

অধ্যাপক তানজিম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন,‘১৭ অক্টোবর বেলা আনুমানিক ১২.৩০-১টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিরাপত্তাসহ আবাসিক হলগুলোকে শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব করে তোলার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষে আরও  তিনজন শিক্ষকসহ আপনার অফিসে যাই। আপনি আমাদের  স্মারকলিপি সাদরে গ্রহণ করেন এবং খোলামনে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেজন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’

তিনি অভিযোগ করে লেখেন, ‘‘দুঃখজনক হলো, ওইদিন বিকাল সাড়ে ৩টা নাগাদ প্রক্টর অফিস থেকে দুজন কর্মচারী আমার বিভাগের অফিসে যায়। তারা প্রক্টরের কথা জানিয়ে আমাদের বিভাগের অফিস কর্মকর্তার কাছে স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানাসহ ব্যক্তিগত কিছু তথ্যের খোঁজ করে। যদিও গতকাল (১৮ অক্টোবর ২০২২) আমাদের অফিস কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, প্রক্টর অফিসে দুই জন আমার ‘পারসোনাল ফাইল’ এর খোঁজ করেছিল!’’

উপাচার্য বরাবর অধ্যাপক তানজিমের চিঠির কপি ‘আমার যাবতীয় তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে সুরক্ষিত থাকার কথা! কোনও তথ্য দরকার হলে রেজিস্ট্রার অফিসই যথেষ্ট নয় কি? কোন ক্ষমতাবলে প্রক্টর একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত তথ্যের খোঁজ এভাবে নিতে চায়? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশ, যা প্রক্টর অফিসের ওয়েবসাইটে বর্ণিত আছে। সেই অনুযায়ী, শিক্ষকদের ক্ষেত্রে প্রক্টরের এ রকম কোনও অধিকার কিংবা এখতিয়ার নেই!’

প্রক্টরের এই ধরনের আচরণ অশিক্ষকসুলভ উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন,‘‘কোনও তথ্যের প্রয়োজন হলে আমার সঙ্গে সহজেই সরাসরি বা রেজিন্ট্রার অফিসে যোগযোগ করা যেতো। কিন্তু অত্যন্ত অশিক্ষকসুলভভাবে এবং অন্য কোনও দুরভিসন্ধি নিয়ে এরকম অগ্রহণযোগ্য কাজটি করা হলো প্রক্টর অফিস থেকে! ঘটনা এখানেই থেমে থাকলেও হতো! ঘটনার দিনই রাত পৌনে ৭টায় আমার স্থায়ী ঠিকানায় একজন পুলিশের এসআই  গিয়ে উপস্থিত হন! সেখানে গিয়ে তিনি জানান, ‘ভেরিফিকেশন’এর জন্য এসেছেন। আমি খবর পেয়ে ফোনে কথা বললে, তিনি জানান— স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একটা তালিকা করা হচ্ছে!’’ 

‘সবকিছু মিলিয়ে উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান, আত্মমর্যাদা এবং স্বকীয়তা বলতে আর কোনও কিছু অবশিষ্ট কিছু আছে কিনা জানি না! প্রক্টর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এখন যা বলছেন, তা কতটুকু সঠিক, সেটা কিন্তু শ্রোতা বা পাঠক সমাজ সহজেই অনুধাবন করতে পারে। উদ্ভট এই কাণ্ডের মধ্য দিয়ে অন্তত তিনটি কাজ তিনি করেছেন। প্রথমত, তিনি এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে শিক্ষকের তথ্যের জন্য কর্মচারী পাঠিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ভঙ্গ এবং তৃতীয়ত, মানসিক হয়রানি করেছেন।’   

‘ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতার দাপটে কোনও সহকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করাই যায় বিভিন্ন উপায়ে! তবে একটা সত্য আমাদের অনুধাবন করা জরুরি, সমাজের কাছে এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে হেয় প্রতিপন্ন হলে শিক্ষক হিসেবে আমাদের কারোর মান-মর্যাদা রক্ষিত হয় না। এতে কে ‘সহমত শিক্ষক’ বা কে ‘ভিন্ন মত’ এর শিক্ষক, তাতে কী আসে যায়! প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বর্তমানের শিক্ষক হিসেবে এটা অন্তত জেনে গেছি— কোনও অভিযোগ তদন্তের দাবি বা প্রতিবাদ করে এসব সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ বা দুরভিসন্ধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড কখনও বন্ধ হয় না। তাই এসব কিছুর প্রতিক্রিয়ায় অন্তত নিন্দা জানাতে চাই— প্রক্টরের এরকম আত্মমর্যাদাবিহীন এবং অশিক্ষকসুল্ভ কর্মকাণ্ডের।’’

এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সেখানে প্রক্টরিয়াল টিমের এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য  অফিসিয়ালি ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে, সেটি সঠিক। তবে উনি (তানজিম উদ্দিন খান) তার ফেসবুক প্রোফাইলে যা লিখেছেন, আমি সম্পূর্ণ পড়েছি। ঘটনা যা হয়েছে, তিনি তার চেয়ে বাড়িয়ে লিখেছেন। উনার ব্যক্তিগত ফাইল চাওয়া হয়নি। আমি উনার সঙ্গে সরাসরি ও মোবাইল ফোনে কথা বলেছি। উনার কোনও অভিযোগ থাকলে সরাসরি জানাতে বলেছি। আমরা চা খেতে খেতে শুনবো। উনি যা লিখেছেন, তাকে আমি বলবো ‘শব্দ সন্ত্রাস’।

অধ্যাপক তানজিমের বাড়িতে পুলিশ যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যা হয়েছে তা আমরা জানি। তবে এলাকায় বা বাড়িতে পুলিশ যাওয়ার সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।’

 

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম