‘আন্তর্জাতিক সিসা বিষক্রিয়া প্রতিরোধ সপ্তাহ’ উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সচেতনতামূলক র্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, ‘সিসা দূষিত দেশের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। দেশের প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ বাংলাদেশি শিশুর (আনুমানিক ৬০ শতাংশ) রক্তে উচ্চমাত্রার সিসার উপস্থিতি রয়েছে; যা শিশুদের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর এবং তা মস্তিষ্কের ক্ষতি করে ও বুদ্ধিমত্তা কমিয়ে দেয়।’
ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস (ডিজিএইচএস), ইউনিসেফ, আইসিডিডিআর,বি এবং আইইডিসিআর’র সহযোগিতায় পিওর আর্থ বাংলাদেশ ও এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) যৌথভাবে এই র্যালি ও মানববন্ধনের আয়োজন করে। ‘সিসা দূষণ সমাধানে, আমরা আছি একসাথে’ এ অঙ্গীকার নিয়ে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে শতাধিক শিক্ষার্থী, গার্লস গাইডের প্রতিনিধি, এনজিওকর্মী, যুব ক্লাব এবং স্বেচ্ছাসেবকরা এতে অংশ নেয়।
র্যালিটি জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে হাইকোর্ট, শিশু একাডেমি, দোয়েল চত্বর ও টিএসসি হয়ে জাতীয় শহীদ মিনারে গিয়ে মানববন্ধনের মাধ্যমে শেষ হয়।
মানববন্ধন থেকে বলা হয়, সিসার কারণে স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর প্রভাবের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং সিসার ব্যবহার প্রতিরোধ করার প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করতে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সিসা বিষক্রিয়া প্রতিরোধ সপ্তাহ পালন করা হয়। মানবদেহে ও পরিবেশে সিসার ঝুঁকির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিতে এ বছর ২২ থেকে ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সীসা বিষক্রিয়া প্রতিরোধ সপ্তাহ পালন করা হবে।
গবেষণার বরাত দিয়ে আয়োজকরা আরও বলছেন, অবৈধভাবে ব্যবহৃত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি, পুনরায় ব্যবহারকারী কারখানা, সিসা-যুক্ত রঙ, অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার জিনিসপত্র, খেলনায় সিসাযুক্ত রঙ এবং পিগমেন্ট (রঞ্জক) হলো বাংলাদেশে সিসা দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস।
পিওর আর্থের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মাহফুজার রহমান বলেন, ‘প্রথমত, আমাদের সরকারের সঙ্গে মিলে কাজ করতে হবে। কারণ আমরা হলুদের মতো ভোগ্যপণ্যে সিসা খুঁজে পেয়েছি। আবার পুরাতন ব্যবহৃত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির রিসাইক্লিং কারখানাগুলো সিসা দূষণের সবচেয়ে বড় উৎস, যেখানে নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, যুব সমাজ হলো ভবিষ্যতের সঙ্গে আমাদের সেতুবন্ধনের মতো। তারাই এক সময় নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে যাবে। এ পরিবর্তনে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারা সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়।’
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, এসডো’র সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশবিদ ড. শাহরিয়ার হোসেন, আইসিডিডিআর,বি প্রকল্প সমন্বয়কারী ড. মাহবুবুর রহমান এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের কনসাল্টেন্ট দিদারুল আলম প্রমুখ।









