অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১২ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রবিবার (২৩ অক্টোবর) মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আদালতে সাক্ষী হাজির না হওয়ায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক শেখ নাজমুল আলম পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১২ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
গত বছরের ৩০ নভেম্বর এ দম্পতির বিরুদ্ধে গঠন করেন আদালত। এ মামলায় মোট ১৯ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
গত ২০২০ সালের ৪ আগস্ট দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বাদী হয়ে পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। দুদক আইনের ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় মামলাটি করা হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফ্রেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওয়েস্টিন হোটেলের ২৫টি রুমে অবস্থান করে পাপিয়া। এই দীর্ঘ সময়ে রুম-নাইট, খাবার, মদ, স্পা, লন্ড্রি ও মিনি বার বাবদ মোট ৩ কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৬১ টাকার বিল ক্যাশে পরিশোধ করে পাপিয়া। ওয়েস্টিন হোটেলে থাকা অবস্থায় প্রায় ৪০ লাখ টাকার শপিংও করে। যে টাকার কোনও বৈধ উৎস দেখাতে পারেনি সে।
এছাড়া ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালে এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাসা ভাড়া বাবদ ৩০ লাখ টাকা, গাড়ির ব্যবসায় বিনিয়োগকৃত ১ কোটি টাকা এবং নরসিংদীতে কেএমসি কার ওয়াশ সলিউশনে বিনিয়োগ করা ২০ লাখ টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকে তার এবং তার স্বামীর নামে জমাকৃত ৩০ লাখ ৫২ হাজার ৯৫৮ টাকারও কোনও বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি দুদকের অনুসন্ধানে।
অন্যদিকে র্যাবের অভিযানে তার বাসা থেকে ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং সুমনের নামে হোন্ডা সিভিএ ২০১২ মডেলের ২২ লাখ টাকার গাড়ি উদ্ধার করা হয়। এরও কোনও বৈধ উৎস মেলেনি দুদকের অনুসন্ধানে।
২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি র্যাব-২ এর একটি দল পাপিয়াসহ চার জনকে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, বাংলাদেশি দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ জাল টাকা, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলংকান মুদ্রা, ১১ হাজার ৯১ ডলার ও সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।









