কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচরে গলা কেটে অটোরিকশা চালক শরীফ মিয়া হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে র্যাব। চাঞ্চল্যকর এ মামলার মূল আসামি ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩। জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জানতে পারে, প্রেমিকাকে বিয়ে করায় ক্ষোভ থেকে অটোচালক শরীফকে গলা কেটে হত্যা করে নিলয় মিয়া ও তার সহযোগীরা।
র্যাব-৩ টিকাটুলি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ রবিবার (২৩ অক্টোবর) এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২২ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর চকবাজার এলাকা থেকে নিলয় মিয়া (২০), ইব্রাহিম মিয়া ওরফে বাদল (১৯) ও হৃদয় মিয়াকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়।
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, ভিকটিম শরীফের স্ত্রীর সঙ্গে নিলয়ের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে তাকে বিয়ে করেন শরীফ। সে ক্ষোভ থেকে নিলয়, হৃদয় এবং বাদল মিলে তাকে খুন করার পরিকল্পনা করে।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তারা একটি মাজারে যাওয়ার কথা বলে শরীফের গাড়িটি ভাড়া করে। তারা শরীফকে মাটিকাটা গ্রামের শান্তিপুর বাঘমারার একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে গ্রেফতারকৃত আসামিরা ভিকটিমকে গালিগালাজ করে, স্ত্রীকে তালাক দিতে বলে। তারা শরীফকে তারা বেধড়ক মারপিট করে। এক পর্যায়ে হৃদয় ও নিলয় ধারালো ছুরি দিয়ে শরীফকে আঘাত করে। শরীফকে গলা কেটে হত্যা করে তারা। পরে তারা শরীফের মোবাইল ও গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। মোবাইলটি জনৈক মুরছালিনের কাছে বিক্রি করে। গাড়িটি বাঁশগাড়ি এলাকায় বাদলের এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে তারা তিন জন ঢাকায় চলে আসে।
প্রসঙ্গত, ভিকটিম শরীফ মিয়া (২৮) কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার পৌর শহরের চন্ডিবের মহল্লার মুক্তার মিয়ার ছেলে। গত ১৩ অক্টোবর বিকাল থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে, কুলিয়ারচর থানাধীন ছয়সূতী ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের শান্তিপুর বাঘমারার বন্দ নামক স্থানে এক অজ্ঞাত যুবকের গলাকাটা লাশ পাওয়া গেছে। পরে তাপরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে মৃতদেহ শনাক্ত করে। শরীফ মিয়ার ভাই শিপন মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।









