রাজধানীর শাহজাহানপুরের রেলওয়ের পানির পাম্পের পাইপে পড়ে নিহত জিহাদের বাবাকে মামলা তুলে নিয়ে আসামিদের সঙ্গে মীমাংসার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর চাপ প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জিহাদের বাবা নাসির উদ্দিন বুধবার এ বিষয়ে প্রথমে কথা বলতে রাজী হননি। পরবর্তীতে তার এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হামিদুল হক শামীম মঙ্গলবার রাতে মীমাংসার জন্য তার কার্যালয়ে ডেকেছিলেন। এসময় তার একটি স্বাক্ষরও নেওয়া হয়। মীমাংসার জন্য তারা কয়েক লাখ টাকা দেওয়ারও প্রস্তাব করেন। তবে এসব কথা বাইরে বলতে নিষেধ করেছেন।’
নাসির বলেন,‘মঙ্গলবার রাতে মামলার আসামি জাহাঙ্গীর বাসায় এসে আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে মামলার আসামিরাসহ অনেকে ছিলেন। যাওয়ার পর একটা স্টাম্পে আমাকে সই দিতে বলেন। আমি প্রথমে সই দিতে রাজি না হলেও পরবর্তীতে সই দিয়ে চলে আসি।’
এ বিষয় থানায় বা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নাসির বলেন,‘বুধবার সকালে থানায় যাওয়ার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু কমিশনারের লোকজন আমাকে এলাকা ছাড়া করবে বলে হুমকি দিয়েছে। তাই যাইনি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথা বলছি।’
২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত খোলা গভীর পাইপে পড়ে যায় শিশু জিহাদ। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে তুলতে ব্যর্থ হলেও পরেরদিন কয়েক যুবক নিজস্ব বুদ্ধিমত্তায় তাকে মৃত অবস্থায় তুলে আনেন।
এ ঘটনায় জিহাদের বাবা নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে ওই পানির পাম্প বসানোর প্রকল্প পরিচালক রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসআর-এর মালিক প্রকৌশলী আবদুস সালামের বিরুদ্ধে শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন।
গত বছরের ৭ এপ্রিল এ দু’জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। কিন্তু আরও কয়েকজন আসামির নাম বাদ পড়ায় জিহাদের বাবা অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেন। নারাজিতে আবু জাফর, সাইফুল ইসলাম, দীপক বাবু ও নাসির উদ্দিন নামের রেলওয়ের চার কর্মকর্তাকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়ার আবেদন করা হয়। শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনাস্থল ওই পানির পাম্প স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে এ চারজনেরও অবহেলা ছিল বলে নারাজিতে বলা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলাটি পুন:তদন্তের দায়িত্ব পায়।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন। তিনি জানান,‘বাদিকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি আমি শুনছি। তাকে একটি জিডি করার অনুরোধ করেছি। মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগরিই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।’
এদিকে হুমকির বিষয়ে কমিশনার হামিদুরের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,‘অভিযোগ সত্য নয়। এসব বানানো কথা।’
/এআরআর/এমএসএম/আপ-এআর/








