ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং-এর প্রভাবে প্রবল ঝড়বৃষ্টির সময় রাজধানীতে ১৭ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এছাড়াও এই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বেশ কিছু ছোট-বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। এসব ঘটনায় রাজধানীর হাজারীবাগে একজন নিহতসহ দুই জন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গতকাল সোমবার সারাদিনে রাজধানীর ১৩টি স্থানে গাছ ভেঙে পড়েছে। রাতে আরও ৩৪ জায়গায় একই ঘটনা ঘটেছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা আনারুল ইসলাম দোলন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রাজধানীর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের লেক রোডে একটি, বিজিবির সদর দফতরের গেটে একটি, গুলিস্তান ভাসানী স্টোডিয়াম গেটে একটি, পানি ভবনের সামনে একটি, বসুন্ধরা সিটি মার্কেটের সামনে একটিসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়কে গাছ ভেঙে পড়েছে।
তিনি বলেন, আগুন কিংবা গাছ ভেঙে বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। যদিও প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) থেকে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’-এর প্রভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় অন্তত শতাধিক গাছ ভেঙে পড়েছে। এর মধ্যে অঞ্চল-১ এর ধানমন্ডি ৩ ও ১০, আইইবি, মৎস ভবন, টিএসসি, সার্কিট হাউজ রোড এলাকায় ১০টি, অঞ্চল ২ এর শান্তিনগর, চানমারি মোড় ও আইডিয়াল স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ৪টি, অঞ্চল ৩ এর নিলক্ষেত, বুয়েটের অভ্যন্তরে, বকশিবাজার বশিরউদ্দিন পার্ক ও আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় ৪টি এবং অঞ্চল ৫ এর মানিকনগর ভুতের বাড়ি রেস্টুরেন্ট, সায়েদাবাদ ওয়ান্ডার ল্যান্ড পার্ক ও দয়াগঞ্জ এলাকায় ৪টি বড় গাছ ভেঙে পড়েছে।
এছাড়াও অঞ্চল-১ এ ২৪টি, অঞ্চল ২ ও ৬ এ ৪০টি, অঞ্চল ৪ ও ১০ এ ৬-৭টি, অঞ্চল ৫, ৭, ৯ এলাকার জুরাইন কবরস্থানে ৬টিসহ কমবেশি ১৫টি মাঝারি ও ছোট আকারের গাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে। ৪-৫টি বড় গাছ বাদে ইতোমধ্যে প্রায় সকল গাছ সরানো হয়েছে।
তবে ধানমন্ডি-৩ এলাকায় ভেঙে পড়া ২টি বড় গাছ কাটা ও সরানোর জন্য দক্ষিণ সিটি করপোরেশন হতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মোহাম্মদপুর অফিসকে সহযোগিতার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও এখনও কোনও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যে করপোরেশন সেখান থেকে একটি বড় গাছ সরানো হয়েছে। বাকি আরেকটি গাছ সরানোর জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে গ্রিন রোড, নবীনবাগ তিতাস রোড, মুগদা মেডিক্যালের সামনে ও মুগদা প্রধান সড়ক, শাহজাহানপুর বেনজির বাগান এলাকা, শহীদবাগ, পল্টন ভিআইপি রোড, আইজি প্রিজন রোড, জয়নব রোড, সুরিটোলা স্কুল, সিক্কাটুলি পার্ক, বংশাল, কমলাপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা, শ্যামপুর, রাজারবাগ গ্রিন লাইন কাউন্টার সংলগ্ন এলাকাসহ ১৮ থেকে ১৯টি স্পটে জলজট সৃষ্টি হলেও বৃষ্টি থামার পর সেসব এলাকা থেকে পানি সরে যায়।
তবে গ্রিন রোডের জলজট নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, হাতিরঝিল আউটলেট খুলে দিতে বারবার অনুরোধ করা হলেও রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ১ ঘণ্টা বিলম্বে গেইট খুলেন। ফলে ইতোমধ্যে পতিত বৃষ্টির পানি সেখানে জলজট সৃষ্টি করে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কিছুটা ভোগান্তি হলেও বৃষ্টি থামার ঘণ্টা খানেকের মধ্যে পানি সরে যায়।









