বাংলা ঋতুচক্রে শরত শেষে এলো হেমন্ত। ঝরা পাতার এই ঋতু আসতে না আসতেই ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাত! রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ভয়ংকর রূপ নিলেও সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিল প্রাণবন্ত। মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) বিকালে নাটক, আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীতে মজে ছিলেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
এদিন বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে প্রাণবন্ত থাকতে দেখা গেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারটি ও বাংলাদেশ মহিলা সমিতির একটি মিলনায়তন। মঞ্চ নাটকের নানান বাঁকে, কবিতার ছন্দাবৃত্তিতে, নৃত্যের ঝংকারে, আর সংগীতের সুরে উচ্ছ্বসিত হন নগরবাসী। এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় প্রতিটি আয়োজনে দর্শকদের উপস্থিতি জানান দেয় সংস্কৃতির প্রাণবন্ত মুগ্ধতা।
বেলা শেষে সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন, পরিক্ষণ থিয়েটার হল, স্টুডিও থিয়েটার হল ও সংগীত আবৃত্তি ও নৃত্য মিলনায়তনে গুণি শিল্পীদের পরিবেশনায় গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু হয়। ২১ অক্টোবর থেকে এই চারটি হলে চলা ১১ দিনব্যাপী এই আয়োজনের পঞ্চম দিন ছিল আজ। এই আসরে সংস্কৃতিপ্রেমীদের ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি।
এতে যাত্রাবাড়ী থেকে আসা সংস্কৃতিপ্রেমী রাগিব আহসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন, ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে রাজধানীতে প্রতিকূল অবস্থা বিরাজ করছে গত দুই দিন ধরে। প্রকৃতিতে হেমন্তের নয়, শীতের আমেজ। এমন অবস্থায় অনেকে ঘরে সময় কাটালেও তিনি উৎসবে এসেছেন সংস্কৃতির টানে। নানা আয়োজন তাকে মুগ্ধ করেছে। জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে মঞ্চায়িত হয় বাতিঘর প্রযোজিত নাটক ‘মাংকি ট্রায়াল’, পরীক্ষণ থিয়েটার হলে বরিশালের শব্দাবলী গ্রুপ থিয়েটারের ‘ঊপসংহার’ নাটক দেখা যায়। স্টুডিও থিয়েটার হলে মৈত্রী থিয়েটারের নাটক ‘চা অথবা কফি’ আর মহিলা সমিতির মিলনায়তনে ঢাকা থিয়েটার মঞ্চের ‘বহিপীর’ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়।
এদিকে, উৎসবের নিয়মিত আয়োজন হিসেবে শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে আবৃত্তির আসর বসে। জলার্ক প্রযোজিত ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’ ও ঊদ্ভাসন প্রযোজনার ‘আগমনী’ ছিল এদিন। জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ছিল নাচ, গান, আবৃত্তি ও পথনাটকের আয়োজন। এতে কিংবদন্তী আবৃত্তি পরিষদ, রোদের ইশকুল, সুরতাল সংগীত একাডেমি, ভোরের পাখি নৃত্যকলা কেন্দ্র ও ঊত্তরীয় থিয়েটার অংশ নিয়েছে।
রাবেয়া বসরি নামে এক সংস্কৃতিপ্রেমী গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবে এসেছেন ঢাকার মিরপুর থেকে। তার সঙ্গে এসেছেন এক ছেলে ও এক মেয়ে। তারা সবাই মিলে প্রথমে শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে নৃত্য, গান, পথনাটক ও আবৃত্তি উপভোগ করেন। সন্ধ্যা নামতেই নাটক শুরু হলে তার বাঁকে মৃগ্ধতায় হারান। বাসায় ফেরার সময় বলে যান, প্রতিকূল আবহাওয়ায় সন্তানদের নিয়ে আসাটা স্বার্থক হয়েছে তার।
এ ছাড়া শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা গ্যালারি-৩ এ সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে পঞ্চম বিপিএল আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী। বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজন এটি। এতে প্রতিযোগী ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবের ষষ্ঠ দিন বুধবার (২৬ অক্টোবর) শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে থাকছে ভারতীয় অনীক নাট্যদলের নাটক ‘পিরানদেল্লো ও পাপেটিয়ার’। পরীক্ষণ থিয়েটার হলে দেশ নাটক মঞ্চায়ন করবে ‘নিত্যপুরাণ’ আর ঊৎস নাট্যদলের নাটক ‘স্বর্ণজননী’তো থাকছেই।
উল্লেখ্য, উৎসবে মঞ্চনাটক, নৃত্য, আবৃত্তি, সঙ্গীত, পথনাটক, যাত্রাপালায় ভারত ও বাংলাদেশের মোট ১১১টি দল অংশগ্রহণ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা। উন্মুক্ত মঞ্চের সাংস্কৃতিক পর্ব প্রতিদিন সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এবং মঞ্চনাটক প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হচ্ছে।









