শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের এক যুগ

রিয়াদ তালুকদার
৩১ অক্টোবর ২০২২, ১৭:১৪আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২২, ১৭:৪০

দেশের গার্মেন্ট কারখানাসহ শিল্পাঞ্চলে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা বন্ধে একযুগ ধরে কাজ করে চলেছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ। আজ ৩১ অক্টোবর পুলিশের বিশেষায়িত এই ইউনিটের ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিল্প-কারখানায় বিশৃঙ্খলার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে মধ্যস্থতা, সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে কাজ করছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাহিনীর কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ প্রধান (অতিরিক্ত আইজিপি) মাহবুবুর রহমান।

বাংলা ট্রিবিউন: ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ কোন পরিস্থিতিতে বা কীভাবে গঠিত হয়?

মাহবুবুর রহমান: শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিতকরণ, রানা প্লাজা ভবন ধস, বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ড, স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে নাশকতামূলক কার্যক্রম বা গুজব সৃষ্টি, ঝুট ব্যবসা ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে শ্রম অসন্তোষ সৃষ্টির মাধ্যমে এ খাতে যথেষ্ট অরাজকতা দেখা দেয়। মালিক-শ্রমিকদের নানামুখী সংকটে আকস্মিকভাবে তাদের কল-কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো সংঘবদ্ধ হয়ে বারবার রাস্তায় নেমে আসে। তারা সড়ক অবরোধসহ শিল্প প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করে। দেশের শিল্পাঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক এলাকাসমূহে সামগ্রিকভাবে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অধিক লোকবল নিয়ে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট থাকা অপরিহার্য হয়ে ওঠে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ

 

পরবর্তী সময়ে মালিক শ্রমিকদের বিভিন্ন ইস্যুতে শিল্প কারখানায় ক্রমবর্ধমান শ্রম অসন্তোষ দেখা দিলে শিল্প খাত সংশ্লিষ্ট মহল, বিশেষ করে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিদেশি ক্রেতা সংস্থা, কারখানার মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতারা শিল্পাঞ্চল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে একটি বিশেষায়িত পুলিশ বাহিনী গঠনের দাবি জানান। ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ তার প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।

বাংলা ট্রিবিউন: ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ শিল্প এলাকায় কী ধরনের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে?

মাহবুবুর রহমান: ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠনের আগে কোনও শিল্প কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ও মালিক পক্ষের সঙ্গে বিভেদ-সংঘাত সৃষ্টি হলে এ নিয়ে অগ্রিম তথ্য সংগ্রহ করে গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক ও সক্রিয় পুলিশিং কার্যক্রম ছিল না। শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক অসন্তোষ, কোনও স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধন বা ষড়যন্ত্র, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, ছুটি সংক্রান্ত সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ে অগ্রিম তথ্য সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ। এক্ষেত্রে শিল্প মালিকদের সংগঠনসমূহ বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএসহ বিভিন্ন শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের স্বার্থরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় এবং মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নয়নের ফলে শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি রয়েছে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন: ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় নিরাপত্তার পাশাপাশি মামলা ও তদন্ত করছে। মামলা তদন্ত করতে গিয়ে জনবল সংকট কিংবা প্রতিবন্ধকতা দেখা যাচ্ছে কিনা?

মাহবুবুর রহমান: ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ শিল্প অধিক্ষেত্রে অবস্থিত ছয়টি ইউনিটের মাধ্যমে ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত শিল্প সংশ্লিষ্ট মোট ৩৪০টি মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে ২৩২টি মামলায় অভিযোগপত্র ও ৫৮টি মামলায় চূড়ান্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। ৪৬টি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। এছাড়াও এ জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধে এই বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গোয়েন্দা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে। এক্ষেত্রে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ প্রয়োজনে জেলা/ মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বিশ্বায়ন ও ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে অপরাধীরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে অপরাধে জড়াচ্ছে। আর শিল্পাঞ্চলে অপরাধের প্রকৃতি ও মাত্রা ভিন্নতর হওয়ায় সেগুলো প্রতিরোধ ও উদঘাটনেও ভিন্নতর দক্ষতার পুলিশিং অপরিহার্য।

বাংলা ট্রিবিউন: করোনাকালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কি ধরনের তৎপরতা ছিল?

মাহবুবুর রহমান: করোনা মাহামারির সময়ে শিল্প এলাকায় সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ, মাস্ক পরতে উৎসাহ দেওয়া, খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। মালিক-শ্রমিকের মধ্যে পরস্পর বিশ্বাস, আস্থা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন এই ইউনিটের সদস্যরা। এছাড়া শ্রমিকদের অনিয়মিত বেতন ভাতা, শ্রমিকদের সঙ্গে স্টাফদের দুর্ব্যবহার, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন ও তুচ্ছ কারণে শিল্প এলাকা অনেক সময় অশান্ত হয়। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠনের পর এসব সমস্যা কৌশলে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ কারখানা এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং করে নানা সমস্যার সমাধান করে থাকে। বিদেশিদের পাশাপাশি ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের নিরাপত্তায় তারা ভূমিকা রাখছেন।

বাংলা ট্রিবিউন: জনবল বাড়ানোর বিষয়ে কোনও প্রক্রিয়া আছে কি?

মাহবুবুর রহমান: ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। দেশের শিল্প এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছয়টি জোনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ১৫টি ইপিজেড ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ জোন গঠন করা হবে। এর জন্য বিভিন্ন পদবির ১৭ হাজার ১৭৪টি পদ সৃষ্টি করতে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা পুলিশ সদর দফতরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অনুমোদনের জন্য বিবেচনাধীন রয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশকে ঢেলে সাজানোর জন্য অর্থ বরাদ্দ শুধু খরচ নয়, এটাকে রাষ্ট্রের বিনিয়োগ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

বাংলা ট্রিবিউন: যারা বিভিন্ন সময় নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে তাদের বিষয়ে কী ধরনের নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?

মাহবুবুর রহমান: ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকার গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা সব বিষয়ে নজর রাখছি। সব বিষয়ে মাথায় রেখেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের প্রতিটি সদস্য কাজ করে যাচ্ছে। যারা কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা কিংবা নৈরাজ্য কিংবা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত তাদের আমরা চিহ্নিত করছি। তাদের ওপর নজর রাখছি। অসাধু গোষ্ঠী যারাই কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ খোঁজে তাদের বিরুদ্ধে অগ্রিম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। ঈদের সময় বেতন-বোনাসকে কেন্দ্র করে আগে বিশৃঙ্খলা ঘটনা ঘটতো। আমরা আগে থেকেই বিভিন্ন ব্যবস্থা এবং মালিক শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করে এসব বিষয় কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। ঈদ বা অন্য কোনও ধর্মীয় উৎসবের আগে রুগ্ন কারখানার বেতন ভাতা পরিশোধ করা নিয়ে যেন শ্রমিক অসন্তোষ না ঘটে সে ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে সমস্যা সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে থাকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ।

বাংলা ট্রিবিউন: ১২ বছরে পেরিয়ে বর্তমানে কোন অবস্থায় আছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কার্যক্রম?

মাহবুবুর রহমান: ২০১০ সালে গঠিত হলেও গত ১০ বছরে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে পরিচিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের একটিও নিজস্ব ভবন নেই। এমনকি উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর রোডে এই ইউনিটের সদর দফতরটিও ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কোনও জোনের সদস্যদের জন্য নিজস্ব প্রশিক্ষণ মাঠ নেই। কোথাও ভাড়া করা ভবন, আবার কোথাও পরিত্যক্ত মিল-কারখানার ভেতরে ফোর্সের জন্য তৈরি করা ব্যারাকে গাদাগাদি করে মানবেতর বসবাস করছেন এই ইউনিটের সদস্যরা। রয়েছে যানবাহন সংকটও। তবে আশার কথা হলো, মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে রাজধানীর মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সদর দফতর ও প্রশিক্ষণ মাঠ তৈরির জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: বাংলা ট্রিবিউনকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মাহবুবুর রহমান: বাংলা ট্রিবিউনকেও ধন্যবাদ।

উল্লেখ্য, আগামী ১০ নভেম্বর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

/এফএস/এমওএফ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
কিশোর গ্যাং ধরে তাবলীগে পাঠাবো: পুলিশ সুপার
ইউনিয়ন কক্ষে কোটি টাকা, ক্যাম্পাসে শয়নকক্ষ; কলকাতার কলেজে তোলপাড়
মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ের কবলে দুই বোন: বাইরে থেকে এসে ছিনতাই করতো চক্রটি 
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম