হিমালয়ের ৬ হাজার ৩৩২ মিটার উঁচু ‘ডোলমা খাং’ পর্বতচূড়ায় আরোহণ করেছেন বাংলাদেশি পর্বতারোহী শায়লা বিথী। তার দাবি, প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে দুর্গম এই পর্বতচূড়ায় পা রাখলেন তিনি। শনিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে পর্বতচূড়ায় পৌঁছান বিথী। রবিবার (৬ নভেম্বর) পর্বত থেকে সফলভাবে নেমে আসেন তিনি। শায়লা বিথী নেপাল থেকে মোবাইল ফোনে এই তথ্য জানিয়েছেন।
শায়লা বিথীর এবারের অভিযানের নাম ছিল ‘দ্য ডোলমা খাং চ্যালেঞ্জ: ফিচার শায়লা বিথী অ্যান্ড জেডএম অ্যাকুয়াবোম্ব’। অভিযানটি পৃষ্ঠপোষকতা করেছে জেডএম অ্যাকুয়াবোম্ব ও বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
গত ২৯ অক্টোবর অভিযানের উদ্দেশে ঢাকা থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ৩১ অক্টোবর কাঠমান্ডু থেকে ডোলমা খাংয়ের উদ্দেশে রওনা হন বিথী। সেদিন চেট চেট নামের একটি এলাকা থেকে ট্রেকিং শুরু হয়। বিথীর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় একজন শেরপা। ৫ নভেম্বর সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ডোলমা খাং চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকার ওড়ান বিথী।
এই পর্বতারোহী বলেন, ডোলমা খাং পর্বতটির চূড়ার দিকের অংশ খুবই দুর্গম। এই পর্বতে এখন পর্যন্ত খুব বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। সে কারণে আমাদের জন্য এই শীর্ষে আরোহণ করা খুবই কঠিন কাজ ছিল। অনেকখানি খাড়া পর্বত বেয়ে উঠতে হয়েছে। চূড়ার আগে খুবই সরু একটা রিজ লাইন পাড়ি দিতে হয়েছে। এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। একটুখানি এদিক-সেদিক হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো।
তিনি বলেন, ডোলমা খাং শীর্ষে দেশের পতাকা শীর্ষে তুলে ধরতে পারার মধ্যে অন্যরকম একটা ভালোলাগা কাজ করেছে। পর্বতচূড়ায় আমি যুদ্ধবিরোধী বার্তা সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করে নিয়ে যাই এবং ছবি তুলি। এ ছবিগুলো যুদ্ধবিরোধী প্রচারে ব্যবহার করবো।
শায়লা বিথীর অভিজ্ঞতার ঝুলিতে রয়েছে ৯টি পর্বতাভিযান, ট্রেকিং ও ট্রেনিং। তিনি গত বছরের অক্টোবরে হিমালয়ের ৬ হাজার ১৮৯ মিটার উঁচু আইল্যান্ড পর্বতচূড়ায় আরোহণ করেন। ২০১৬ সালে ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টিনিয়ারিং থেকে পর্বতারোহণের মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি। প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০১৮ সালের মে মাসে তিব্বতের লাকপারি (৭ হাজার ৪৫ মিটার) পর্বতচূড়া জয় করেন। ২০১৯ সালের মে মাসে হিমালয়ের দুর্গম তাশিলাপচা (৫ হাজার ৭৫৫ মিটার) গিরিপথ পার হন। ২০২১ সালের নভেম্বরে হিমালয়ের বিখ্যাত থ্রি-পাস অতিক্রম করেন।
এছাড়াও তিনি ২০১৫ সালে নেপালের মাউন্ট কেয়াজুরির বেসক্যাম্প (১৫ হাজার ৫শ’ ফুট উচ্চতা) ট্রেকিং করেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে নেপালের মেরা পর্বতের চূড়ায় (৬ হাজার ৪৭৪ মিটার) ওঠেন। ২০১৭ সালের এপ্রিলে নেপালের থ্রংলা পাস (৫ হাজার ৪১৬ মিটার) অতিক্রম করেন। ২০১৭ সালের অক্টোবরে প্রথম বাংলাদেশি দলের অংশ হয়ে মানাসলু সার্কিট (৫ হাজার ১০৬ মিটার) সম্পন্ন করেন।









