ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প ও বিজয় সরণীর কলমিলতা বাজারের ক্ষতিপূরণ প্রদানে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প ও কলমিলতা বাজার শীর্ষক সংবাদ ভূমি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আলোচ্য সংবাদে কেবল ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারধীন। এ সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশের পূর্বে ভূমি মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যও নেওয়া সমীচীন ছিল, যা হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সংবাদে উল্লেখিত নর্থ-সাউথ প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (এনএসপিডিএল) নামের আবাসন কোম্পানির ব্যাপক অনিয়ম এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গের মতো জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে গত ১৯শে অক্টোবর ভূমি মন্ত্রণালয় এনএসপিডিএল-এর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে।
চুক্তির যেসব শর্ত ভঙ্গ করে অনিয়ম করা হয়েছে তার মধ্য অন্যতম হচ্ছে— এনএসপিডিএল কর্তৃক ফ্ল্যাটের জন্য নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ, ফ্ল্যাট বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে এনএসপিডিএল কর্তৃক ইচ্ছামত সুবিধাভোগীদের নিকট বরাদ্দ প্রদান, অতিরিক্ত হারে ইউটিলিটি চার্জ আদায়, ব্যাংকের পরিবর্তে এনএসপিডিএল কর্তৃক নিজ অফিসে ফ্ল্যাট বিক্রয় ও জামানতের অর্থসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট লেনদেন সম্পাদন, মোট নির্মিতব্য ফ্ল্যাটের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না করা ইত্যাদি।
এতে আরও বলা হয়, ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয় নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্পের ৪টি এ টাইপ ভবনে ৫৭৬ জন সুবিধাভোগী বস্তিবাসীর মধ্যে ফ্ল্যাট বিতরণ করেছে এবং ৪টি বি টাইপ ভবনে ৩৮৪ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে ফ্ল্যাট বিতরণ করেছে। এছাড়াও, বর্তমানে ৩টি এ টাইপ ও ৮টি বি টাইপ ভবনে সর্বমোট ১২৯৬টি ফ্ল্যাট তৈরির জন্য ডিপিপি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মানের জায়গায় আসীন করে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে নিয়েছে বহুবিধ পদক্ষেপ। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। এ সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশের ব্যাপারে উত্তম চর্চা ও পেশাদার সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী গণমাধ্যম সর্বদা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয় মর্মে ভূমি মন্ত্রণালয় বিশ্বাস করে।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বরে ভাসানটেক থানার আওতাধীন ১৫০ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প এবং বিজয় সরণীর কলমিলতা বাজারের ক্ষতিপূরণ প্রদানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ এনে তার সম্প্রতি এর প্রতিবাদ জানায় শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদিরের পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধার নাতনি নুরতাজ আরা দাবি করেন, রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকার কলমিলতা বাজার যে জমির ওপরে, তার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। বাজারটির জমির মালিক তার পরিবার।
নুরতাজ আরা বলেন, ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ আদালত থেকে দুই মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও ক্ষতিপূরণ দেয়নি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ক্ষতিপূরণ দিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা ক্ষতিপূরণের অর্থ বুঝে পাচ্ছেন না। তার দাবি, কলমিলতা বাজারে ক্ষতিপূরণ বাবদ তাদের পাওনা ৪ হাজার কোটি টাকা।
তিনি ৬ দফা দাবি তোলেন -ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের বাধা দূর করা, কলমিলতা বাজারের ক্ষতিপূরণ প্রদানে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করা, ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক নর্থ-সাউথ প্রপার্টির চুক্তি বাতিল আদেশ অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করার ব্যবস্থা করা, দুদকের বন্ধ হওয়া তদন্ত কার্যক্রম পুনরায় চালু করা এবং শহীদ পরিবার হিসেবে আব্দুর রহিম সাহেবের পরিবারের সদস্যদের জানমাল ও সম্পদের সুরক্ষা প্রদান করা।









