বাসযোগ্য ও পরিকল্পিত ঢাকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নগর সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ড্যাপ বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও নগর বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (১২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে পরিবেশ বাচাঁও আন্দোলন (পবা) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে ‘ঢাকা মহানগর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (২০২২-৩৫) বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তারা এ দাবি জানান।
মতবিনিময় সভায় দ্য ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) সভাপতি প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা বলেন, ‘বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) বাস্তবায়নে একটি অ্যাকশন প্ল্যান প্রয়োজন। রাজউক থেকে পরিকল্পনা অনুমোদন করার পরে পরিকল্পনায় ব্যতয় ঘটে। একটি রেগুলেটরি বডির মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি সব অংশীদারের সমন্বয়ে একটি সংস্থা তৈরি করে একজন মন্ত্রীর দায়িত্বে ড্যাপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘একটি এলাকার নাগরিক সুবিধাকে বিবেচনায় না নিয়ে ভবনের উচ্চতা বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হলে এলাকাটি বাসযোগ্যতা হারাবে। আবাসিক এলাকায় রাস্তার প্রশস্ততা এবং জমির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে এফএআর নির্ধারণ করা হয়েছে। এফএআর প্রতি তিন বছরে এবং পুরো ড্যাপ প্রতি পাঁচ বছরে রিভিউয়ের সুযোগ আছে। উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য এলাকাভিত্তিক মনিটরিং টিম তৈরির চেষ্টা করছি। রাজউক ঢাকা শহরে একক সংস্থা হিসেবে অনেক মাঠ তৈরি করেছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা আমাদের কার্যপরিধির কাছে নেই। মাঠ-পার্ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এলাকাবাসীর কাছে দেওয়া প্রয়োজন। রাজউক এবং সিটি করপোরেশন ওয়াচডগ হিসেবে থাকবে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘শহরে জনঘনত্ব বেশি হওয়ার কারণে স্কুল, মাঠ-পার্কসহ অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। ব্যক্তি স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে একটি শহরকে ধ্বংস করা অনুচিত। অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে একটি স্থায়ী কমিটি প্রয়োজন।’
পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সোবহান বলেন, ‘ঢাকা শহরে বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই।’
ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, ‘ড্যাপে চিহ্নিত মাঠ-পার্কের তালিকা তৈরি করে সেগুলো উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, ‘বর্তমান ড্যাপে অনেক আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত ধারণা দেওয়া হয়েছে। ভুলত্রুটি বা বিতর্ক যাই থাকুক না কেন বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার বিষয়ে আমাদের কোনও দ্বিমত নেই। একটি রোড ম্যাপের মাধ্যমে রাজউকের নের্তৃত্বে ড্যাপ বাস্তবায়নে উদোগ প্রয়োজন।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক উন্নয়ন কেন্দ্রের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য মারুফ হোসেন, বি-স্ক্যানের কো-অর্ডিনেটর ইফতেখার মাহমুদ, পবা’র সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ, ডিডিপি’র চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, ধানমন্ডি কচিকণ্ঠ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এইচ এম নুরুল ইসলামসহ অনান্যরা।









