রাজধানীর মিরপুর থেকে আরিয়ান আহম্মেদ (৩৭) নামে এক ‘বহুরূপী প্রতারক’কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে মিরপুর জনতা হাউজিং এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার (১৬ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতার আরিয়ান ঢাকার দক্ষিণখানের পূর্ব আজমপুরের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৮টি মামলা রয়েছে।
ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, আরিয়ান নিজেকে কখনও কম্পিউটার ব্যবসায়ী, কখনও স্বর্ণ ব্যবসায়ী, কখনও কানাডাভিত্তিক এনজিওর কান্ট্রি ডিরেক্টর, কখনও মিডিয়া মালিক, আবার কখনও প্রবাসী ব্যবসায়ী পরিচয় দেন।
এছাড়াও প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে তার 'যোগাযোগ' আছে বলেও জাহির করতেন। এজন্য বিভিন্ন সময় তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে মেজর, ইউএনও, পুলিশ সুপার বলে পরিচয় করিয়ে দেন।
তিনি বলেন, মিজান নামে এক প্রবাসীর কাছ থেকে কম্পিউটার ব্যবসায় বিনিয়োগ করার নামে এক লাখ টাকা নেন আরিয়ান। এরপর মেজরের জন্য স্বর্ণের বার কিনবেন বলে ৯ লাখ টাকার স্বর্ণের বার নেন। এই ১০ লাখ টাকা পরিশোধের নাম করে তাকে চেক দেন। কিন্তু সেই অ্যাকাউন্টে এক টাকাও ছিল না।
ওসি বলেন, মিঠুন সরকার নামে আরেক ব্যক্তির কাছে নিজেকে কানাডাভিত্তিক একটি এনজিওর কান্ট্রি ডিরেক্টর পরিচয় দেন আরিয়ান। এই এনজিওর উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে দেন বলে জানান তিনি। পরে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কানাডায় নিয়ে যাওয়া হয় বলেও জানান তিনি। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার নামে মিঠুনের কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।
মোহাম্মদ মহসিন বলেন, মিজান ও মিঠুন অভিযোগ জানালে গতকাল মিরপুর জনতা হাউজিং এলাকা থেকে প্রতারক আরিয়ানকে গ্রেফতার করা হয়। আরিয়ান মঙ্গলবার ইতালি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তার আগেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।









