স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য সচেতনতা প্রয়োজন এবং সচেতনতা স্কুল থেকে শুরু করা দরকার। এর মাধ্যমে শিশু অবস্থা থেকে একজন ব্যক্তি স্বাস্থ্য সচেতন জীবনের অধিকারী হতে পারে বলে মনে করেন জার্মান ডক্টরস সংস্থার নির্বাহী বোর্ডের সদস্য ক্রিস্টিন উইঙ্কেলম্যান।
বাংলাদেশ, ভারত, ফিলিপিন্স, কেনিয়া, উগান্ডাতে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে থাকে জার্মান ডক্টরস। এছাড়া গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন রিফিউজি ক্যাম্পেও কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে সংস্থাটি।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত উইঙ্কেলম্যানের সম্প্রতি ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতি নিয়ে কথা বলেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে। বাংলাদেশের কয়েকটি অঞ্চলে জার্মান ডক্টরসের স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসকরা বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে। কারিতাস বাংলাদেশের সহযোগিতায় ঢাকার সাভার, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি অঞ্চলে সারা বছরজুড়ে ৪০ জনের বেশি বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ জার্মান চিকিৎসকরা সেবা দিয়ে থাকে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন উইঙ্কেলম্যান বলেন, একজন ব্যক্তির ডায়রিয়া হলে সেটির চিকিৎসা করা যেতেই পারে, কিন্তু ডায়রিয়া হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে দূষিত পানি পান করা এবং সেটির দিকে নজর দিলে ডায়রিয়ার প্রকোপ কমে আসবে।
মূল বিষয়টি হচ্ছে অসুখ হলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে কিন্তু অসুখ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান সবার থাকা দরকার। এই জ্ঞান আহরণ যত কম বয়স থেকে শুরু হবে তত ভালো।
হেলথ লিটারেসি
বর্তমানে হেলথ লিটারেসির বিষয়টি জোরেশোরে সামনে আসছে। এর মানে হচ্ছে মানুষের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য থাকতে হবে—কোন ধরনের আচরণ স্বাস্থ্যসম্মত এবং কোনটি নয়।
তিনি বলেন, তবে এটিও ঠিক অনেক সময় পর্যাপ্ত তথ্য থাকলেও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যসম্মত জীবন-যাপন করা যায় না।
উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বেড়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং এই জ্ঞান আমাদের আছে। কিন্তু একটি শহরে যদি মাঠ না থাকে তবে ওই শিশু খেলবে কোথায়।
তিনি বলেন, এখন অনেক সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন খাবার গ্রহণ করার আগে শিশুরা ভালো করে হাত ধোয় এবং সেটি প্রচারণা এবং শিক্ষার ফল।
রোগ সম্পর্কে জ্ঞান
রোগ না হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের যেমন দরকার আছে তেমনি রোগ হলে কী করতে হবে সেটিও মানুষের জানার দরকার আছে।
তিনি বলেন, অনেক রোগ আছে যেমন হাইপারটেনশন বা ডায়াবেটিস হলে অনেক কিছু মেনে চলার প্রয়োজন দেখা দেয়। প্রথম অবস্থায় রোগটি কী সে বিষয়ে জানতে হবে এবং কী করলে ভালো থাকা যাবে এবং কী করা যাবে বা যাবে না সেটি জানতে হবে।
এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে জার্মান ডক্টরস—জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা অর্থাৎ রোগীর চিকিৎসা সেটি আমরা দিয়ে থাকি।
এর পাশাপাশি মানুষকে ভালো থাকার বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকে সংস্থাটি। যেমন শিশুদের সঠিক পরিচর্যার জন্য মায়েদেরকে বিভিন্ন পুষ্টি সম্পর্কে জানিয়ে থাকে জার্মান ডক্টরস। এছাড়া অনেকের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা থাকে যেগুলো হয়তো ব্যায়ামের মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব এবং সেই পরামর্শ দিয়ে থাকে সংস্থাটি বলে তিনি জানান।









