‘বিগত জাতীয় নির্বাচনে পুলিশের কর্মকর্তারা আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করেছেন। আমি অন্য কোনও দেশে এমন দৃষ্টান্তের কথা শুনিনি।’ জাপানি রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকির এমন বক্তব্য অসমর্থিত, ভিত্তিহীন ও অনভিপ্রেত বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সভাপতি ও রাজধানীর গুলশান থানার ওসি বি.এম. ফরমান আলী ও সাধারণ সম্পাদক যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ‘রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এবং ফ্রেডরিক অ্যাবার্ট স্টিফটুং (এফইএস) আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসাডর’ অনুষ্ঠানে গত ১৪ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নোত্তরে জাপানি রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি পুলিশের বিরুদ্ধে যে ভিত্তিহীন ও অনাকঙ্ক্ষিত অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, তাতে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। তার মন্তব্যে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত বিব্রত ও মর্মাহত হয়েছে।’
‘মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। যার ফলশ্রুতিতে একক বাহিনী হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি শহীদ হন পুলিশ বাহিনীর সদস্য। আত্মত্যাগের সেই মহান ব্রত নিয়ে দেশ প্রেমিক বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে দেশ ও জনগণের জন্য। জাপানি রাষ্ট্রদূতের মতো দায়িত্বশীল ব্যক্তির এহেন মন্তব্য বাংলাদেশ পুলিশসহ দেশবাসীকে হতবাক করে দিয়েছে।’
‘নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা সংক্রান্ত প্রকৃত তথ্য হলো— বাংলাদেশ পুলিশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রদান করে থাকে। ভোটারের প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া বা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ভোটারদের ভোট প্রদানে পুলিশের কোনও ভূমিকা বা কার্যক্রম নেই। বাংলাদেশ পুলিশ সব নির্বাচনে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা প্রদান করে থাকে। বিগত প্রায় এক যুগ ধরে বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিস্ময়কর অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করে চলেছে। বাংলাদেশ পুলিশের মতো একটি পেশাদার বাহিনী সম্পর্কে জাপানি রাষ্ট্রদূতের এহেন বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত।’
জাপান বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ও উন্নয়নের বৃহৎ অংশীদার। ঐতিহাসিকভাবে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সুগভীর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ পুলিশ সম্পর্কে জাপানি রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক মন্তব্য বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে হতাশ এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তার বক্তব্যের উল্লিখিত অংশ প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ সম্পর্কে ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন তার আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছে।’









