বিএনপিকে উদ্দেশ করে পুলিশের সাবেক আইজিপি শহীদুল হক বলেছেন, আপনারা নির্বাচনে আসবেন না এটা কোনও ভালো চিন্তা না। সরকারের সঙ্গে বসতে হবে। আপনারা রূপরেখা দেন, আমরা নির্বাচনকালীন সরকারে এমনটা করতে চাই। আপনারা দুই দল বসেন, জনগণকে বাঁচান।
রবিবার (২০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আবদুস সালাম হলে ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন বনাম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাসঙ্গিক ভাবনা’ বিষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদুল হক বলেন, ‘আপনারা নির্বাচনে আসবেন না, তা শোভা পায় না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আসেন নাই। নির্বাচন কিন্তু বসে নেই, নির্বাচন হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সবাই সেই সরকারকে স্বীকৃতিও দিয়েছে। ২০১৪ সালের তুলনায় আওয়ামী লীগ এখন ২০২২ সালে আরও অনেক শক্তিশালী।’
তিনি বলেন, ‘এখন যারা কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট চায়, তারা আদালতে গিয়ে দাবি তুলবে। আদালত অনুমোদন না দিলে কী সেটা করা যাবে? এটা আদালত অবমাননা। আপনি রাজনীতি করবেন, দেশ চালাবেন, আর আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা থাকবে না, এটা হতে পারে না।’
সাবেক আইজিপি বলেন, ‘গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ১/১১ কার্যকলাপে তিক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ কেয়ারটেকার সরকার চায় না। এছাড়া দেশের সর্বোচ্চ আদালত যে ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করেছে, আবার সে জিনিসটা নতুন করে প্রতিষ্ঠা করার কি কোনও সুযোগ আছে? যে তত্ত্বাবধায়ক চলে গেছে, সেটা আসার আর কোনও সুযোগ নাই। এখন আপনারা কীভাবে নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, ফেয়ার নির্বাচন কী পন্থায় করা যায়, সেই চিন্তা করেন।’
২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৪ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন—বিএনপিকে ৫টি মন্ত্রণালয় দেওয়া হবে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করার অনেক চেষ্টা করেছেন তিনি। টেলিফোন করেছিলেন বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়াকে। আমরা তো শুনেছি তার কথা। দেশের সিটিং প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যার সঙ্গে যে আচরণটা করলেন।’
২০১৮ সালের নির্বাচনে পুলিশ রাতের বেলায় ভোট দিয়েছে বিএনপির এমন দাবি নাকচ করে সাবেক এই আইজিপি বলেন, ‘যদি রাতের বেলায় পুলিশ ভোট দিয়ে থাকে, তাহলে আপনারা ধরলেন না কেন? এত মিডিয়া তারা দেখালো না কেন? বিএনপি যদি নির্বাচনে কারচুপি ধরতে না পারে, সেটা তাদের ব্যর্থতা। এখন তাদের চিন্তা করতে হবে, যেন কোনও কারচুপির নির্বাচন না হয়, কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, সে বিষয় নিয়ে চিন্তা করা।’
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মতিনের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব সউম আবদুস সামাদসহ অনেকে।









