যৌন হয়রানি বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশিকা অনুসারে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে একটি করে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন এবং কার্যকরী করাসহ ৯টি সুপারিশ জানিয়েছে নারী আইনজীবীরা।
সোমবার (২৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ-২০২২ উদযাপন উপলক্ষে ‘কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের নির্দেশিকা বাস্তবায়নের অগ্রগতি শীর্ষক’ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি এ সভার আয়োজন করে।
নারী আইনজীবীদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে– কমিটিগুলোর উদ্যোগ, সুযোগ ও ক্ষেত্র সম্পর্কে গণসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া; রিপোর্টিং ও প্রক্রিয়া কার্যকরীকরণ; প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য একটি ছোট বাজেট বরাদ্দ করা; একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সাংগঠনিক স্তর থেকে প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা।
মহিলা আইনজীবীরা আরও দাবি করে বলেন, আইন কমিশন যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় কিছু সংশোধন করেছে কিন্তু তারা এখনও এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশিকাগুলি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ার আরেকটি কারণ হলো তাদের বাস্তবায়ন বা নিরীক্ষণ করার জন্য কোনও ব্যবস্থা তৈরি করা হয়নি। রিট পিটিশনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে বিবাদী করা হলেও রায়ের পর তারা নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যবেক্ষণে সক্রিয় ছিল না। নির্দেশিকাগুলি প্রস্তাব করে না, কীভাবে মন্ত্রণালয় বা সরকারি সংস্থাগুলোকে তাদের বাস্তবায়নের জন্য একটি কৌশল প্রণয়নের জন্য সমন্বয় করা উচিত বা কোন সংস্থাগুলিকে বিভিন্ন সেক্টর বা প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
তারা বলেন, নারীদের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মস্থলে যে কয়েকটি কমিটি আছে তাদের মধ্যে মাত্র ৪৪ শতাংশ কার্যকরী। ৫৭ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং কর্মস্থলে নারীদের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে রিপোর্টিংয়ের জন্য কোনও কম্প্লেইন বক্স নেই এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সমাধান বিষয়ে কোনও তথ্য জানা নেই।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবীর সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী। সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য জেসমিন আরা, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) পরিচালক নাজমা ইয়াসমিন, বিএনডব্লিউএ’র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সীমা জহুর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়দা পারভীন ট্রেজারার জাকিয়া আনারকলি প্রমুখ।









