বছর ঘুরে ডিসেম্বর মাস এলেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে তোড়জোড় দেখা যায়। এসময়ে স্মৃতিসৌধে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের ব্যস্ততা কিছুটা বাড়তে দেখা গেলেও বছরের অন্য সময়ে থাকে ঢিলেঢালা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্মুক্ত গণপরিসর হওয়ায় স্মৃতিসৌধ এলাকায় বছরজুড়েই সব শ্রেণির মানুষের বিচরণ থাকে। দর্শনার্থীদের পাশাপাশি সেখানে পথশিশু, ভবঘুরে ও মাদকসেবীদের অবস্থান করতে দেখা যায়।
রবিবার (১১ ডিসেম্বর) সরেজমিন দেখা যায়, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসকে সামনে রেখে স্মৃতিস্তম্ভটির সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলবে।
দীর্ঘদিন ধরে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইমদাদুল হক রিপন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, উন্মুক্ত স্থান হওয়ায় সব শ্রেণির মানুষ এখানে আসে। সকালে ৪ জন ঝাড়ুদার এসে স্থানটি পরিষ্কার করে। ভোর ৬টায় গেট খুলে দেই, সন্ধ্যায় বন্ধ হয়। আমাদের ১২ জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছে, উনারা ২৪ ঘণ্টা পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া পুলিশ-র্যাবও সাদা পোশাকে থাকে। স্মৃতিস্তম্ভের এক পাশে একটি লাইব্রেরি এবং আর্ট গ্যালারি নির্মাণ হচ্ছে। খুব শিগগিরই এগুলোর কাজ শেষ হবে আশা করছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিরাপত্তাকর্মী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগে উচ্ছৃঙ্খল কিছু যুবক এখানে দীর্ঘ সময় ধরে আড্ডা দিতো, এদের কেউ কেউ মাদক সেবন করতো। এক মাস ধরে এদের কম দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, মাঝেমধ্যেই কবরস্থানের সাইনবোর্ড, কবরের নেমপ্লেট চুরি হয়ে যেতে দেখা যায়।
স্থানটির নিরাপত্তা নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও জোনের উপ-কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক বলেন, নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের কড়া নির্দেশ রয়েছে। পুলিশ সদস্যরা সেখানে সবসময় নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছেন।
মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এলাকায় কেউ অপকর্ম করলে বা সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
তিনি আরও বলেন, আমরা টহল, নিরাপত্তা বাড়িয়েছি। সংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়ির অফিসারকেও সতর্কতার বিষয়টি জানিয়ে রেখেছি। ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী উপলক্ষে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।









