বাংলাদেশের শক্তি হলো বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির অপরিমেয় বোধের শক্তি। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় কেবল বাঙালির রাজনৈতিক বিজয় নয়, আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিজয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমির এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলা একাডেমির সচিব এ এইচ এম লোকমান বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল দিন ১৬ ডিসেম্বর। বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। বিজয় আমাদের সুযোগ দিয়েছে দেশমাতৃকার সেবা করার। ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
কবি ও গবেষক ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘বাঙালি কয়েক হাজার বছর ধরে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের বিজয় কেবল বাঙালির রাজনৈতিক বিজয় নয়, আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিজয়। বিজয় দিবসে আমাদের স্মরণ করতে হবে সেই রক্তের ইতিহাস, দীর্ঘশ্বাসের ইতিহাস যা আমাদের বিজয়ের পথে ধাবিত করেছে। এই বিজয়কে সমুন্নত রাখতে হলে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। বিজয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সততা, মমতা, দেশপ্রেম ও দক্ষতা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’
সভাপতির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, ‘বাংলাদেশের শক্তি হলো বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির অপরিমেয় বোধের শক্তি। আমাদের বোধের মাধ্যমেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চিন্তা করেছিলাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাতিসন্তান হিসেবে আমরা উন্নয়নের ধারায় অগ্রসর হতে চাই এবং বিশ্ববাঙালি হিসেবে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ৮টায় একাডেমির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।








