সাংবাদিক শবনম শারমিনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি—নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যায় বাধ্য হয়েছেন শারমিন। রাজধানীর মগবাজার এলাকার ভাড়া বাসা থেকে মঙ্গলবার লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ বলছে, ৪-৫ দিন আগে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নিহতের ছোট ভাই অমর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সে যদি আত্মহত্যা করে থাকে তাহলেও এর পেছনে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নির্যাতনের ঘটনা থাকতে পারে। আমাদের ধারণা তাকে মানসিক-শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। লাশের পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট এলে সত্যটা বেরিয়ে আসবে। আগে বিভিন্ন সময় আলাপকালে ওর ওপর টর্চার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছিল। তাদের ভাড়া করা বাসায় তার স্বামী ছাড়া আর কেউ থাকতো না।
হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক ফায়সাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, খবর পেয়ে বড় মগবাজারে ওই বাসার দরজা ভেঙে ভেতর থেকে ওই নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করি। লাশটিতে পচন ধরায় ধারণা করছি, ৩-৪ দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি।
ঘটনার পর নিহতের বড় বোন শবনম পারভিন হাতিরঝিল থানায় লিখিত অভিযোগ করে বলেন, স্বামী সাইদুল ইসলাম আমার বোনকে তালাকের জন্য শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করতো বলে আমরা জানতে পেরেছি। সবকিছু বিবেচনা করে ধারণা করছি—নির্যাতন করে তাকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে।
থানায় লিখিত অভিযোগে শবনম পারভিন বলেন, শবনম শারমিন মুক্তি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি/মার্চ মাসের দিকে সাইদুল ইসলামকে বিয়ে করে বলে জানতে পারি। তারপর থেকে তারা দুইজন হাতিঝিল থানার বড় মগবাজার এলাকায় একটি বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করে। গত ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৫০ মিনিটে আমি আমার ছোট বোনের সঙ্গে ফোনে কথা বলি। তখন সে জানায়—সে অফিসের কাজে বাইরে আছে। আরও জানায়, ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় নাও ফিরতে পারে।
তিনি অভিযোগে আরও বলেন, আমি গত ২৩ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টায় আবার ফোন দিলে ফোনে রিং হলেও রিসিভ করছিল না। পরে ওইদিন সাইদুল ইসলামকে (বোনের স্বামী) ফোন করলে পরে এ বিষয়ে জানাবেন বলে জানান। পরে আর ফোন না দেওয়া আমি আবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে তাকে ফোন দেই। তখন তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ২৫ ডিসেম্বর আবার ফোন দিলে তিনি জানান, আপনার বোন আপনাকে ঠিকানা দেয় না, আমি কেন দিবো। আপনাদের বোনকে আপনারা খোঁজে নেন। এসময় সে শারমিন সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলে।
তিনি অভিযোগে বলেন, কোনও খোঁজ না পেয়ে আমার ছোট ভাই ওমর রশিদকে পারভিনের অফিসে পাঠাই। অফিসে গিয়ে সে জানতে পারে সে দুই সপ্তাহ ধরে অসুস্থ, অফিস করছে না। আমি আবার সাইদুলকে ফোন দেই। চাপাচাপি করলে সে বাসার ঠিকানা দেয়।
পরে ঘটনাস্থলে আমার ছোট বোনের বান্ধবী সাদিয়া আমাকে জানায়, সাইদুল আমার বোনকে তালাকের জন্য শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করতো। সবকিছু বিবেচনা করে ধারণা করছি—সাইদুল নির্যাতন করে আমার বোনকে আত্মহত্যায় বাধ্য করেছে।
এ বিষয়ে জানতে নিহত শবনম শারমিনের স্বামী এশিয়ান টিভির সাবেক অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক সাইদুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের একটি বাসার দরজা ভেঙে শবনম শারমিনের (২৮)ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত শারমিন দ্যা রিপোর্ট ডট লাইভ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে সংবাদকর্মী ছিলেন। তার বাবার নাম হারুন অর রশিদ। গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলায়।









