মেট্রোরেলে যাত্রী চলাচল শুরুর আজ চতুর্থ দিন। এই কয়েকদিনেও স্বপ্নের গণপরিবহনে চড়তে দূরদূরান্ত থেকে আসছেন উৎসাহী মানুষ। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির পর আজ ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনেও অনেকেই মেট্রোরেলে চড়তে স্টেশনে ভিড় করেছেন।
গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারির মধ্যে অন্তত ১০০ জন যাত্রীর সাথে কথা বলেছে বাংলা ট্রিবিউন। যাদের অধিকাংশই জানিয়েছেন, তারা মূলত মেট্রোরেলে চড়ছেন অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য। অনেকেই পরিবার নিয়েও এসেছে আনন্দ ভ্রমণের জন্য।
গত ২৯ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর স্টেশনের প্লাটফর্মে কথা হয় রূপন মেহেদি নামে এক তরুণের সঙ্গে। তিনি জানান, ‘ফেনী থেকে আমি আমার চাচাকে নিয়ে ঢাকায় এসেছি মেট্রোরেল দেখার জন্য।’
তার চাচা বলেন, ‘আমিতো চিন্তাও করতে পারিনি এমন একটা দৃশ্য দেখবো। খুবই ভালো লাগছে।’
গত ৩০ ডিসেম্বর একই স্টেশনে কথা হয় মো. রিয়াজ মুনশির সঙ্গে। গোপালগঞ্জ থেকে আসা এই তরুণ বলেন, ‘স্বপ্নের মেট্রোরেল দেখতে ও চড়ে অনুভূতি নেওয়ার জন্য ঢাকায় এসেছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েছিলাম টিকিটের লাইনে। তারপরও শেষ পর্যন্ত এতে চড়তে পেরেছি, সেটাই আনন্দের।’
অন্যদিকে অফিসগামীরা এখনও মেট্রোরেলে যাতায়াত শুরু করেননি। সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, মেট্রোরেল নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা শেষ হওয়ার পরেই অফিসগামী বা প্রয়োজনে যারা যাতায়াত করবেন তাদের জন্য চলাচল উপযোগী হবে।
অবশ্য অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, উৎসুক মানুষের ভিড়ের কারণে অনেকে প্রয়োজনের সময় গন্তব্য পৌঁছাতে পারেননি। আবার অনেকে টিকিটই সংগ্রহ করতে পারেনি। আবার কেউ কেউ বলছেন, মেট্রোরেলের চলার সময় ৮টা থেকে ১২টা অফিসগামীদের জন্য অনুকূল নয়। তা ছাড়া এখনও সব স্টেশন থেকে উঠতে পারছেন না যাত্রীরা।
শরিফুল ইসলাম নামের একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, ‘আমি উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে থাকি আর আমার অফিস ধানমন্ডিতে। আমার মেট্রোরেলে চলাচল করা দরকার। কিন্তু সকাল থেকে যে লাইন তৈরি হয়, এর পেছনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে অফিস করা কঠিন।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের অনকেই লাইনে দাঁড়িয়ে অফিসে লেট করেছে। আবার আসার সময় ট্রেন পাওয়া যায় না। তাই এটা আমার জন্য এখনও আশির্বাদ হয়ে ওঠেনি।' মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর দাবি করেন তিনি।
মেট্রোরেল পরিচালনাকারী ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক জানিয়েছেন, মানুষের উৎসাহ কমে গেলে ও অভ্যস্ত হয়ে উঠলে মেট্রোরেলের চলার সময় বাড়ানো হবে। আর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বর্তমানে মেট্রোরেল সপ্তাহে একদিন মঙ্গলবার বন্ধ রাখা হচ্ছে। পুরোদমে চালু হলে সেটাও রাখা হবে না।
এখন উৎসাহী যাত্রীদের সংখ্যাই বেশি উল্লেখ করে এমএএন ছিদ্দিক বলেন, ‘যারা এই লাইনে নিয়মিত যাতায়াত করবেন, তাদের সংখ্যাটা কম। আমাদের যে টিকিট বিক্রি হয়, তার ৯৫ ভাগ উৎসাহী জনগণ। আমরা আগে উৎসাহী জনগণকে সামাল দিয়ে নেই তারপর সব ঠিক করবো।’
তিনি জানিয়েছেন, ‘আগামী ২৬ মার্চ থেকে মেট্রোরেল উত্তরা উত্তর ও আগারগাঁও স্টেশনের মাঝে বাকি সাত স্টেশনেও থামবে।’









