শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘এন্ট্রাপ্রেনারস অর্গানাইজেশনের (ইও)-এর উদ্যোগে গ্লোবাল স্টুডেন্ট এন্ট্রাপ্রেনার অ্যাওয়ার্ড (জিএসইএ) প্রদান দেশে স্মার্ট নাগরিক তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের কর্মোপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীর বিষয়ের সঙ্গে আইসিটি ও সফট স্কিল এমবেড করে দিতে হবে।’
শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে এন্ট্রাপ্রেনারস অর্গানাইজেশন (ইও) আয়োজিত বাংলাদেশ গ্লোবাল স্টুডেন্ট এন্ট্রাপ্রেনার অ্যাওয়ার্ড (জিএসইএ)-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।
দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরির কাজ করছে এন্ট্রাপ্রেনারস অর্গানাইজেশনের (ইও)। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পর্বের ইও আয়োজিত বাংলাদেশ গ্লোবাল স্টুডেন্ট এন্ট্রাপ্রেনার অ্যাওয়ার্ডের(জিএসইএ) গ্র্যান্ড ফাইনালের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। বিশ্বজুড়ে ব্যবসার পরিবেশে পরিবর্তন আসছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে বদলে যাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘আমরা ভালো শিখি, ভালো ডিগ্রি অর্জন করি কিন্তু সেটির প্রয়োগ নেই। সফট স্কিলে বড় ঘাটতি আছে। এই শেখার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তরুণ উদ্যোক্তারা চিন্তা করতে শিখবে। তারা অন্য অনেকের সঙ্গে কাজ করতে শিখবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীরই কমবেশি আইডিয়া জেনারেট করার সক্ষমতা থাকে, কিন্তু উপযুক্ত পরিবেশ থাকে না। আমরা সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করে দিতে চাই, যার যেখানে প্রতিভা আছে সেখানে সে বিকশিত হবে। সেই চেষ্টা আমরা করছি। আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই। এই এন্ট্রাপ্রেনার অর্গাইজেশনের যে চেষ্টা তার মধ্য দিয়ে আমাদের চেষ্টাও যদি যুক্ত হয়, আমরা যদি শিক্ষার্থীদের সেরকমভাবে গড়ে তুলতে পারি তাহলে বাংলাদেশ বহু আইডিয়া জেনারেট করে বৈশ্বিক অনেক সমস্যা সমাধানের কাজ করতে পারবে।’ এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের ওর স্যালাইনের কথা উল্লেখ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা যে বিষয় নিয়েই পড়ুক না কেনো সেটা বিশেষ বিবেচনা নয়, কতকগুলো স্কিল (দক্ষতা) এমবেডেড কোর্স হিসেবে পড়াশোনার মধ্যে থাকবে। কমিউনিকেশন স্কিলস, কোলাবরেশন স্কিলস, প্রব্লেম সলভিং স্কিলসসহ নানা রকমের স্কিলস জানতে হবে। শিক্ষায় এই পরিবর্তনগুলো আনবো। এ কাজটি মোটেই মসৃণ নয়, পথটা বন্ধুর। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে অপপ্রচার করা হচ্ছে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুর হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখাই কিন্তু তাদের যদি উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে না পারি; প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ না করতে পারি তাহলে কীভাবে তারা উদ্যোক্তা হবে? এ জন্য আমরা আউটকাম বেইজ এডুকেশন ব্যবস্থা তৈরি চেষ্টা করছি। আমরা শিক্ষার্থীদের এমন শিক্ষা দিতে চাই যা বর্তমান যুগে উপযোগিতা আছে, চাকরির বাজারে চাহিদা আছে। যা এর আগে হয়নি। ’
বাংলাদেশ পর্বের এই গ্র্যান্ড ফাইনালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, উদ্যোক্তা সংগঠনের বোর্ড অব ডিরেক্টর মি. মার্ক ও. স্টকলি, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের এমডি সামি আহমেদ, আইডিইএ’র প্রকল্প পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন এবং দক্ষিণ এশিয়ায়ান চেয়ার সঞ্জয় ঝুনঝুনওয়ালা। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক কাজী ইনাম আহমেদ।
বিচারক প্যানেলে ছিলেন, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের সিইও ফারজানাহ চৌধুরী, ইও বাংলাদেশ সদস্য শামীম আহসান, এসবিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া বশির কবির, আইডিইএ প্রজেক্টসের সিনিয়র কনসালটেন্ট অপারেশন বিশেষজ্ঞ সিদ্ধার্থ গোস্বামী এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের সিইও কায়সার হামিদ।
গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েটের) শিক্ষার্থী কায়সার আহমেদ। দ্বিতীয় হয়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাফাত জামিল এবং তৃতীয় হয়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সারোয়ার জাহান। বিজয়ীরা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।









