রাজধানীর ভাটারা থানার যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে ভিক্টর ক্লাসিক বাসের ধাক্কায় বেসরকারি নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় বাসের চালক ও তার সহকারী ঢাকা ছেড়ে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে নিজ কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আব্দুল আহাদ এসব তথ্য জানান।
ডিসি আব্দুল আহাদ বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাটারা থানার পুলিশ ঘটনাস্থানে গিয়ে বাসটি আটক করে। নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাদিয়ার সুরতহাল প্রতিবেদন করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের পাঠায়। পরবর্তী সময়ে নিহতের বাবা বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা করেন।
ঘটনার পর গতকাল রবিবার নিহতের সহপাঠীরা সড়ক বন্ধ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক বাস চালককে গ্রেফতারের দাবি জানায়। এ তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গতকাল ঘটনার পরপরই ভাটারা থানার ওসি আসাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে মিরপুর শাহ আলী থানার প্রিয়াঙ্কা হাউজিং এলাকা থেকে বাসের চালক লিটন ও তার সহকারী আবুল খায়েরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
ঘটনার সময়ের চিত্র উল্লেখ করে ডিসি বলেন, ‘গতকাল নিহত নাদিয়া ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী নামে তার বন্ধুর মোটরসাইকেলে করে উত্তরা থেকে যমুনা ফিউচার পার্কে আসে। ফিউচার পার্ক থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময়ে পেছন থেকে ভিক্টর ক্লাসিক বাসটি তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে পেছনে থাকা নাদিয়া সিটকে সড়কে পড়ে যান। পরে বাসের পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে স্পটেই মারা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।’
কিছু দিন পরপর বাসের রেষারেষির কারণে শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের প্রাণ যায়। চালকদের এই প্রতিযোগিতা বন্ধে কোনও কার্যকর ভূমিকা নেবেন কিনা- জানতে চাইলে ডিসি বলেন, ‘ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে সড়কে আইন মানার জন্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি আমরা যারা পথচারী ও যাত্রী আছি, আমাদেরও চলাফেরার সময়ে সতর্কভাবে আইন মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।’
ভিক্টর ক্লাসিক বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে সুপ্রভাত পরিবহন নাম পরিবর্তন করে রাস্তায় চলা করছে। এই বিষয় ডিসি আহাদ বলেন, ‘বিষয়টি এখনই আমাদের জানা নেই। মামলা হয়েছে তদন্তে জানা যাবে বাস কিংবা পরিবহনের মালিক কারা। নাম পরিবর্তন হয়েছে কি না সেটি তদন্ত করে জানা যাবে। ঘটনার পরেই আত্মগোপন ছিল চালক ও সহকারী তারা ঢাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।









