সদ্য প্রয়াত দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন ও কূটনৈতিক মহিউদ্দিন আহমেদের স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এ সভা আয়োজিত হয়। সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম : মুক্তিযুদ্ধ '৭১ এই সভার আয়োজন করে।
স্মরণসভার শুরুতে সম্প্রতি প্রয়াত সব বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
মহিউদ্দিন আহমেদ স্মরণে তার স্ত্রী বেগম বিলকিস মহিউদ্দিন বলেন, মহিউদ্দিন ছিলেন অনেক উদার মনের মানুষ। মানুষকে তিনি অনেক ভালোবাসতেন। এলাকার মাছ বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতা সবাইকেই তিনি স্নেহ করতেন। তারা এক দিন না এলে তাদের খোঁজখবর নিতেন। খুবই সাধারণ জীবন যাপন করতেন উনি।
মহিউদ্দিন আহমেদের লেখা বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি (মহিউদ্দিন আহমেদ) দুই হাজারের মতো কলাম লিখেছেন। আপনারা যদি কেউ এটা প্রকাশ করেন, তাহলে খুবই ভালো হয়। সত্যিই, অত্যন্ত দামি এই লেখা আর কেউ লিখবে না।
স্থপতি মোবাশ্বের হোসেনকে নিয়ে বিশিষ্ট স্থপতি ও নাগরিক আন্দোলন ব্যক্তিত্ব ইকবাল হাবীব বলেন, দেশ বিদেশের যেকোনও জায়গায় তিনি মানুষের অধিকারের জন্য দাঁড়িয়ে যেতেন। হাতিরঝিলের বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে আমরা একসঙ্গে দাঁড়িয়েছিলাম। পাঁচ বছর আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে সে ভবন ভাঙা হয়। এটা ছিল আমাদের একটা সফলতা।
তিনি আরও বলেন, যারা পরিবেশ আন্দোলন নিয়ে কাজ করতেন, তাদের তিনি (মোবাশ্বের হোসেন) বলতেন, তোমরা হচ্ছ এই সময়ের মুক্তিযোদ্ধা। আমার আফসোস হয়, যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়, তখন আমার বয়স ৭ বছর, আমি যুদ্ধে যেতে পারিনি।
মোবাশ্বের হোসেন প্রতিষ্ঠিত ‘গেরিলা ৭১’ প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ক এম এন কোরায়েশী মোবাশ্বের হোসেনকে নিয়ে বলেন, তিনি আমার পিতার থেকেও বেশি ছিলেন। আমি তার উষ্ণতা কখনো ভুলবো না। তার কাছ থেকে আমি সততা শিখেছি। তিনি (মোবাশ্বের হোসেন) সব সময় বলতেন আত্মসমালোচনা প্রয়োজন আছে, আত্মসমালোচনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের অপর পাশের এক বিল্ডিংয়ে একটা গেরিলা অ্যাটাক হয়, যেটাতে তিনিও ছিলেন। কিছুদিন আগে আমরা সিআইএর একটি নথি হাতে পাই, যেখানে এই গেরিলা অ্যাটাকের কথা উল্লেখ করা হয়।
সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ’৭১-এর কার্যনির্বাহী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নুরুল আলমের সভাপতিত্বে ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রাষ্ট্রদূত কামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক হারুন হাবিব, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, যুগ্ম মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী, সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ, বিশিষ্ট লেখক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম বেদু, অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ও শীর্ষ কূটনীতিক মসুদ মান্নান।









