অবিলম্বে হকারদের একটি জাতীয় নীতিমালা ও আইন প্রণয়নসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা।
রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে হকারদের জন্য জাতীয় নীতিমালা ও আইন প্রণয়নের দাবিতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে লেবার অ্যাট ইনফরমাল ইকোনমি এবং বাংলাদেশ হকার সংগ্রাম পরিষদ। উক্ত সংবাদ সম্মেলন এসব দাবি জানান তারা।
লেবার অ্যাট ইনফরমাল ইকোনমির ভাইস চেয়ারম্যান মো. কামাল সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘হকার-বাংলাদেশের শহুরে জীবনে শ্রমজীবী ও পেশাজীবীদের মধ্যে একটি সুপরিচিত নাম। কর্মহীনতা ও বেকারত্ব থেকে হকারদের সৃষ্টি। এই বেকাররা আত্ম-কর্মসংস্থানের উপায় হিসেবে স্বেচ্ছায় এই পেশা গ্রহণ করে। ফলে সরকারের ওপর বেকারদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির চাপ হ্রাস পায়, অন্যদিকে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষরা স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করে তাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর সুযোগ পায়। এ ছাড়া হাজার হাজার লোকাল গার্মেন্টস, কুটির, মৃৎশিল্প ও ক্ষুদ্র শিল্পের মালিক-শ্রমিক, সবজি, ফুল, ফল চাষীসহ লাখ লাখ মানুষ এই পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। সুতরাং দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন জীবিকায় হকারদের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। নগর অর্থনীতিতে হকারদের অবদান অস্বীকার করা যায় না। তারপরও হকার পেশার জনগোষ্ঠী বিভিন্নভাবে নিপীড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘হকার পেশা ভিত্তিক অর্থনীতি দেশের অবহেলিত ও বেকার শ্রেণীর মানুষের বেঁচে থাকার পথ দিয়েছে। আজ শুধু পুরুষ নয়, হাজার হাজার নারী ও সমাজের বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে জীবিকা নির্বাহের জন্য এই পেশায় যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে বিনা নোটিশে এবং তাদের জীবিকার বিকল্প ও স্বল্প আয়ের লোকেদের সস্তা কেনাকাটার প্রতি আগ্রহ বিবেচনা না করেই ফুটপাত এবং কর্মক্ষেত্র থেকে যখন তখন অমানবিকভাবে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়। তাদের কর্ম ও জীবনের নিরাপত্তা নেই, সামাজিক মর্যাদা নেই, স্বার্থ রক্ষার কোনও আইন নেই।’
হকারদের যথাযথ পুনর্বাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হকারদের যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে তাদের এ পেশা থেকে উচ্ছেদের কোনও উপায় নেই। তাই হকারদের যথাযথ পুনর্বাসনের মাধ্যমে উচ্ছেদ করতে হবে এবং তাদের স্বার্থবিরোধী সকল আইন বাতিল করে স্বার্থ রক্ষায় জাতীয় নীতি ও আইন প্রণয়নসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তাদের দাবিগুলো হলো- হকার ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের পূনর্বাসনের জন্য জাতীয় নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করতে হবে; পূনর্বাসন ছাড়া হকারদের উচ্ছেদ করা যাবে না; হকার ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের পূনর্বাসনের জন্য সরকারকে হকারদের নিবন্ধন করতে হবে; হকার ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের পেশাকে 'অর্থনৈতিক কাজ' হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে; হকার ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিশ্চিত করতে হবে; হকার ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদেরকে সার্বজনীন পেনশন সুবিধার আওতায় আনতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হকার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আবুল হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক হারুন-উর-রশিদ, সাবেক সদস্য সচিব সেকেন্দার হায়াৎ, লেবার অ্যাট ইনফরমাল ইকোনমির ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর ফরিদা খানম, সমন্বয়কারী ইসরাত জাহান প্রমুখ।









