ট্যানারি শিল্পে শ্রমিক ছাঁটাই ও নির্যাতন বন্ধ, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত এবং ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
ট্যানারি এলাকায় শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করতে না দিলে ট্যানারি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমাদের অধিকার আদায়ে কোনও সভা-সমাবেশ করতে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হলে তা শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের মতো আচরণ। যদি শ্রমিকদের সভা-সমাবেশ করার অধিকার না থাকে তাহলে আমরা কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবো।’
তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের সমস্যাগুলো সমাধান না হলে এই শিল্পে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সেটি মালিক-শ্রমিক, চামড়া শিল্প এবং দেশের অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক নয়।’
ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ১০ দফা দাবি হলো– সরকার ঘোষিত ট্যানারি শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ৫ শতাংশ বৃদ্ধিসহ কার্যকরী করতে হবে, সোশাল কমপ্লায়েন্স বিষয়ে সরকার অনুমোদিত ন্যাশনাল প্ল্যান অব অ্যাকশনের সুপারিশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে, ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার কারণে শ্রমিক ছাঁটাই ও নির্যাতন বন্ধ করে আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, শোভন কাজ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, চামড়া শিল্প নগরীতে অবিলম্বে শ্রমিকদের জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতাল করতে হবে, মাতৃত্বকালীন ছুটি, প্রসূতিকল্যাণ সুবিধাসহ ট্যানারিতে কর্মরত নারী শ্রমিকদের আইনানুগ প্রাপ্য সব সুবিধা দিতে হবে, ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে ইউনিয়নের সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে, চুক্তি লঙ্ঘন করে মধ্যস্বত্বভোগী কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে কাজ করানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক ও হাজিরা কার্ড যেসব ট্যানারিতে এখনও দেওয়া হয়নি অবিলম্বে তা দিতে হবে এবং শ্রম আইন অনুযায়ী চাকরির শর্তাবলি মেনে চলতে হবে, সরকার দ্বিতীয় পর্যায়ে চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নিয়েছে সেখানে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নকে যুক্ত করে প্রথম ফেজে বাদ পড়ে যাওয়া আবাসন ব্যবস্থাসহ শ্রমিকদের জরুরি সব বিষয় বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে হবে।
ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন– বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সহিদুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশনের (বিএলএফ) চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান ও ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক।









