যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘নিউ ইয়র্ক বাংলা বইমেলা’। এর ৩২তম আসর বসবে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে। আগামী ১৪ জুলাই শুরু হয়ে মেলা চলবে ১৭ জুলাই পর্যন্ত।
বুধবার (১ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় মেলার আয়োজক সংস্থা মুক্তধারা ফাউন্ডেশন।
নিউ ইয়র্ক বাংলা বইমেলার আহ্বায়ক ড. আবদুন নূর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘৩১ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে এ মেলার আয়োজন করে আসছে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন। ১৯৯২ সালে বিশ্বজিত সাহার একক প্রয়াসে এ মেলার যাত্রা শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ১৪ থেকে ১৭ জুলাই মেলার ৩২তম আয়োজন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘লেখক, পাঠক, প্রকাশকরা বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও কৃষ্টির আধুনিক চর্চার অঙ্গিকার নিয়ে নিউ ইয়র্ক বাংলা বইমেলায় অংশ নেবেন। মেলায় নতুন বই নিয়ে আলোচনা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতনামা প্রকাশক, লেখকরা নিউ ইয়র্ক বাংলা বইমেলায় যোগ দিয়েছেন। এছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের লেখক, কবি, শিল্পী ও পাঠকদের মিলনমেলায় এই বইমেলা ক্রমেই বাংলা ভাষা, সাহিত্য এবং কৃষ্টির নিবিড় চর্চকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে।’
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, ‘ভাষা ও স্বাধীনতা একই সূত্রে গাঁথা। শুধু অনুবাদ দিয়ে ভিন্ন ভাষাভাষী কাছে বাংলা সংস্কৃতিকে তুলে ধরা কঠিন। কারণ অনুবাদ পৃথিবীর কঠিন কাজগুলোর একটি। বাংলা একাডেমি সেই কঠিন কাজটি করার চেষ্টা করছে। সব বই না হোক, অন্তত বিখ্যাত বইগুলোকে অনুবাদ করলে আমাদের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছাবে।’
বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, ‘নিউ ইয়র্ক বাংলা বইমেলায় যতবার গিয়েছি, বিদেশিরা জিজ্ঞেস করেছে, তোমাদের ইংরেজি ভাষার বই নেই? এই মেলায় অন্তত দুটি স্টল থাকা উচিত, যেখানে বিদেশি পাঠকদের জন্য বাংলা ভাষার অনুবাদ বই থাকবে। এতে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতি অনেক দূর পৌঁছাবে।’
নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘এই বইমেলা আসলে বইমেলা নয়, এটি একটি সংস্কৃতি মেলা। এই মেলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম ও শিশুদের কাছে একুশের মূল চেতনা তুলে ধরতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের পরিচালক কবি মিনার মনসুর, কথা সাহিত্যক আনিসুল হক, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ডা. জিয়া উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ভারতীয় কবি কাজল চক্রবর্তী, অনন্যা প্রকাশনীর স্বত্তাধিকারী মনিরুল হক, সময় প্রকাশনীর স্বত্তাধিকারী আলমগীর শিকদার, কবি শিহাব শাহরিয়ার প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছরের মতো এবারও মেলায় মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হবে। মেলায় অভিবাসী নতুন লেখকদের প্রকাশিত গ্রন্থ থেকে দেওয়া হবে ‘শহীদ কাদরী গ্রন্থ পুরস্কার ২০২৩’। এছাড়া মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থা থেকে শ্রেষ্ঠ প্রকাশনা সংস্থাকে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা সেরা প্রকাশনা সংস্থা’ পুরস্কার দেওয়া হবে।









