সার্ভারে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদ প্রস্তুতকারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (১ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর পল্লবী থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারা হলেন-মো. মাহবুব আলী (২৪), মো. শাহ আলম (২৫), মো. হাসান তারেক (৪৭), কোহিনুর সুলতানা (৪৫) ও মো: ফয়সাল (১৯)। এ সময় তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু জন্ম সনদ, জন্ম সনদ তৈরির ভুয়া কাগজপত্রসহ ৮টি ফাইল, ৩টি হার্ডডিস্ক ও ৪টি মোবাইল জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় সিআইডির মিডিয়া উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি জন্ম ও মুত্যু নিবন্ধন অধিদফতরের রেজিস্টার জেনারেল মো. রাশেদুল ইসলাম, সিআইডিকে একটি আবেদনে উল্লেখ করেন যে, অবৈধ বিকল্প পদ্ধতিতে কে বা কাহারা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সার্ভারে BDRIS (Birth & Death Registration Information System) অনুপ্রবেশ করে সনদ প্রস্তুত করছে। তাদেরকে চিহ্নিত এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও জন্য অনুরোধ জানান।
পত্র প্রাপ্তির পর সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোহাম্মদ আলী মিয়ার নির্দেশনায় সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি), সিআইডি এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করে। পরে কয়েকজন ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করে। ভিকটিমদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ‘জন্ম নিবন্ধন হেল্প ডেস্ক’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপের সন্ধান পাওয়া যায়। যেখানে ফেসবুকে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তারা বলছে, একদিনেই দেশের যেকোনও জেলার জন্ম/মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করুন।
সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) সেই ফেসবুক গ্রুপের এডমিনসহ ভিকটিমের সঙ্গে জন্ম নিবন্ধনের ব্যাপারে যোগাযোগকারী চক্রটিকে শনাক্ত করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেফতার করে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট শাখা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে জানা যায়, সেই ফেসবুক গ্রুপটি গ্রেফতারকৃত মো. মাহবুব আলী ও মো. শাহ আলম পরিচালনা করে। তারা ফেসবুকের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গা হতে লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্লায়েন্ট সংগ্রহ করে। পরে মো. ফয়সাল তার দোকানে ফরম পূরণ করতে আসা ক্লায়েন্টদের দেওয়া তথ্যের ভুয়া জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন সনদ প্রস্তুত করতো।
এভাবে ভুয়া তথ্য দিয়ে জন্ম নিবন্ধন এবং এই জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেটেই এনআইডি, পাসপোর্টসহ বিভিন্ন পরিচয়পত্র ইস্যু করা হচ্ছে। যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি স্বরূপ বলে জানায় সিআইডি। আসামিদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা রুজু হয়েছে বলেও জানায় সংস্থাটি।