সমাজ পরিবর্তন না হলে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত এমন বিষয়গুলোতে নারীর অংশগ্রহণ অনেক কঠিন হবে উল্লেখ করে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, ‘সবার আগে আমাদের কাঠামোগত সমস্যা দূর করতে হবে। নারী কী করবে, পুরুষ কী করবে— তা আমরা পাঠ্যপুস্তকেই নির্ধারণ করে দিচ্ছি, এটিই বড় সমস্যা। যেমন বিদ্যালয়ে মেয়েদের পড়ানো হয় গার্হস্থ্য অর্থনীতি। পাঠ্যপুস্তকে বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে রাখা হয়েছে। লিঙ্গভিত্তিক স্টেরিও টাইপিং ও শক্তিশালী শিক্ষা ব্যবস্থার অভাব আমার মতে মূল বাধা।’ জাতীয় পাঠ্যক্রমের ব্যাপক পরিবর্তন দরকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সোমবার (৬ মার্চ) দুপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘একশনএইড বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে ‘উদ্ভাবনের নারী: জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, প্রযুক্তি ও সমাধানে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শিক্ষা উপমন্ত্রী সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে ষোল বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর জন্য বিজ্ঞান শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমাদের পাঠ্যক্রম লিঙ্গ সংবেদনশীল তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা লিঙ্গ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করেছি।’
অনুষ্ঠানে ইনোভেশন ফেয়ার, গেমস, অ্যাওয়ার্ড প্রদানসহ ছিলো প্যানেল ডিসকাশন। বিভিন্ন সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা ইভেন্টে যোগ দেন এবং লিঙ্গ সমতার জন্য উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির গুরুত্ব, এবং এ ক্ষেত্রে নারীদের বর্তমান অবস্থা এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির তার সূচনা বক্তব্যে বলেন, ‘নারীরা শত বছর আগে তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছিল এবং ২০২৩ সালেও সমতার অভিপ্রায়ে তা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে ডিজিটাল ইক্যুইটির উপর জোর দেওয়া হয়েছে - 'ডিজিটাল: লিঙ্গ সমতার জন্য উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি' এবং স্টেম-এ নারীদের অংশগ্রহণের প্রচার।’
অনুষ্ঠানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. নোভা আহমেদন আইসিডিডিআর,বি-এর ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র ডিরেক্টর ড. ফিরদৌসী কাদরী, একশনএইড বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটির এক্সিকিউটিভ বোর্ড সদস্য মিরাজ আহমেদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন।
এই আয়োজনে তৃণমূল পর্যায় থেকে চার নারী- মোসাম্মৎ গোলসানারা বেগম (পরিবেশবান্ধব কৃষিতে নারীর ভূমিকা); হোমায়রা আহমেদ জেবা (জলবায়ু সুবিচার ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় নারী নেতৃত্ব); পারভীন ( প্রথাগত পেশা থেকে বেরিয়ে এসে ভিন্ন পেশায় নারী) এবং সানজিদা ইসলাম ছোঁয়াকে (যৌন হয়রানি, নির্যাতন ও বাল্যবিয়ে বন্ধে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী) তাদের অনবদ্য কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘নাসরীন স্মৃতি পদক-২০২৩’ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ইভেন্টে উদ্ভাবন মেলারও আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে ১০টি বিভিন্ন সংস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা (নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, শেরেবাংলা এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি, স্বাধীন, সাথী, ক্লেমেন্টাইন ডেটা, চলপড়ি, ব্রিজ ফাউন্ডেশন, কোকো ফার্টিলাইজার, আউরি) স্টলের মাধ্যমে তাদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করেন।









