স্বাধীনতা দিবসে একটি শিশুকে অর্থ দিয়ে প্ররোচিত করে অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা।
বুধবার (২৯ মার্চ) তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নারী ও শিশু অধিকার কর্মী তারানা হালিমের সই করা এক সম্মিলিত বিবৃতিতে বলা হয়, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দৈনিক প্রথম আলোর একজন ফটোসাংবাদিক একটি কোমলমতি শিশুর হাতে ১০ টাকা দিয়ে ‘আমাগো মাছ, মাংস আর চাউলের স্বাধীনতা লাগবো’ বলে যে মন্তব্য করিয়েছেন, তা সাংবাদিকতা নীতিমালার পরিপন্থী এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে অবুঝ শিশুকে ব্যবহারের নির্লজ্জ দৃষ্টান্ত।
বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘‘এই শিশুটি নিজেই পরে সাংবাদিকদের বলেছে, ‘ওই সাংবাদিক (প্রথম আলোর) আমাকে ১০ টাকা দিয়ে এই কথা বলতে বলেছে, আমি বলছি’। শিশুটির এই সত্য ভাষণ এবং প্রথম আলোর ওই সংবাদটি ভাইরাল হওয়ার ১৭ মিনিট পর প্রত্যাহার করা— এই সত্যকেই প্রতিষ্ঠিত করে যে, একটি শিশু তাদের দ্বারা অর্থের বিনিময়ে সরকারকে বিব্রত করার রাজনৈতিক কারণে ব্যবহৃত হয়েছিল, যা একটি শাস্তিযোগ্য বিবেকবর্জিত গর্হিত অপরাধ।’’
‘একটি শিশুকে অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করা, কিছু বলতে বাধ্য করা এবং রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এই ঘটনাটি— বাসন্তীকে জাল পরিয়ে ছবি তুলে সরকারবিরোধী প্রোপাগান্ডা চালাবার কথাই আমাদের মনে করিয়ে দেয়।’ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পরবর্তীকালে বাসন্তী বলেছিল, তাকে টাকার বিনিময়ে শাড়ির ওপর জাল পরিয়ে ওই ছবিটি তুলেছিল সাংবাদিক।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘একটি শিশুকে অর্থের বিনিময়ে প্রলুব্ধ করে এহেন সংবাদ পরিবেশনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে একটি শিশুকে নির্লজ্জভাবে এহেন ব্যবহারের জন্য দোষীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী অন্যরা হলেন— স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের সংগীত শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মুক্তিযুদ্ধকালীন সেক্টর-২ এর ঢাকা গেরিলা বাহিনীর সবুজ গ্রুপের বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচ্ছু জালাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, বীর প্রতীক, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা অভিনেতা, সংস্কৃতিকর্মী আহসানুল হক মীনু, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহ আযম শান্তনু, টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, সংগীত শিল্পী শুভ্র দেব, অভিনেতা ও সংস্কৃতিকর্মী সাজু খাদেম, মীর সাব্বির, তুষার খান ও পুনম প্রিয়ম।









