সৃজনশীল কর্মকাণ্ড মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন সৃজনশীল মানুষ।
সোমবার (৩ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম কমিউনিটি আর্ট উদ্বোধনী কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সরকারের এপিসি প্রকল্প এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে শিশুদের এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন—চট্টগ্রাম বিভাগের ডেপুটি কমিশনার আবুল বাশার মোহাম্মদ ফকরুজ্জামান, বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা বিষয়ক ম্যানেজার এলিসা কাল্পনা, চেয়ারপারসন ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও এপিসি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এস এম লতিফ। অনুষ্ঠানে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর, সমাজসেবা, শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমির পরিচালকসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি কমিশনার আবুল বাশার মোহাম্মদ ফকরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের ‘ভিশন ২০৪১’ এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে এ ধরনের উদ্যোগ ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরও বলেন, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড মানুষের দেখার দৃষ্টিভঙ্গিই পরিবর্তন করে দেয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের কারণে শিশু এবং শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল করতে সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আমাদের সৃজনশীল মানুষের প্রয়োজন; এ লক্ষ্যে তিনি এ ধরনের সকল উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
বিশেষ অতিথি চাইল্ড প্রটেকশন ম্যানেজার এলিসা কাল্পনা বলেন, ইউনিসেফ মানুষকে সংযুক্ত করতে এবং শিশুদের জন্য একটি প্রতিরক্ষামূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে শিল্পকলার শক্তিতে বিশ্বাস করে। এই প্রকল্প শিশু সুরক্ষা শক্তিশালী করার জাতীয় কর্মসূচির অংশ যা স্থানীয় নেতৃত্বে শিশুর জন্য সুরক্ষা পরিবেশ গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত নিশ্চিত করে। এই পর্যন্ত প্রায় ১০০০ শিশু সুরক্ষা ‘কমিউনিটি হাব’ তৈরি হয়েছে যা স্থানীয় নেতৃত্ব অথবা সরকারি সহযোগিতায়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০২৩ সালে মাত্র তিন মাসে ৪৪ লাখ শিশু ও তাদের অভিভাবকদের সরাসরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষা প্রদানের এই কর্মসূচিকে টেকসই করার জন্য সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতাকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।
এমওডব্লিউসিএ'র অ্যাকসেলারেটিং প্রোটেকশন ফর চিলড্রেনের (এপিসি) যুগ্ম সচিব ও প্রকল্প পরিচালক এস এম লতিফ পুনরাবৃত্তি করেন যে একটি শিল্পকর্ম হাজার কথা বলতে পারে। তিনি বলেন, শিশুদের প্রতি প্রতিহিংসা প্রতিরোধে এপিসি'র বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে দেশব্যাপী এই আর্ট ইন্টারভেনশন কিশোর কিশোরী ও কমিউনিটির সদস্যসহ শিশুদের শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করবে। সহিংসতা প্রতিরোধে এই জাতীয় কর্মসূচির জন্য তিনি ইউনিসেফকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
ইউনিসেফ ৭০ জন কমিউনিটি আর্টিস্টকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক চিত্রশিল্পী লিন্ডা ভেলেন্তেকে নিয়োগ দেয়। প্রথম কর্মশালার দ্বিতীয় অংশে লিন্ডা ভেলেন্তে শিল্পকলা সম্পর্কে ৭০ জন কমিউনিটি আর্টিস্টদের মধ্য থেকে এই কর্মশালায় ১৩ জন আর্টিস্টকে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে নির্দেশনা দেন এবং ১৩ জন কমিউনিটি আর্টিস্ট ও ১৩ জন শিশুসহ শিল্প কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে ডেপুটি ডাইরেক্টর, ডিএসএস, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং শিল্পকলা একাডেমির জেলা পর্যায়ের অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।









