১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় তুতসিদের ওপর গণহত্যার ২৯তম বার্ষিকীর আন্তর্জাতিক প্রতিফলন দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস শোক প্রকাশ করেছেন।
এ উপলক্ষ্যে এক বার্তায় মহাসচিব বলেন যে, ‘১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডায় তুতসি জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার আন্তর্জাতিক এই প্রতিফলন দিবসে ২৯ বছর আগে মাত্র ১০০ দিনে হত্যাকাণ্ডের শিকার ১০ লাখের বেশি শিশু,নারী ও পুরুষের জন্য আমরা শোক পালন করছি। আমরা গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, যাদের সিংহভাগই তুতসি জনগোষ্ঠী। তবে তাদের মধ্যে হুতু এবং গণহত্যার বিরোধিতাকারী অন্যান্যরাও রয়েছে।’
ওই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পরও টিকে থাকা মানুষগুলোর সহনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন,‘আমরা রুয়ান্ডার জনগণের ক্ষত সারিয়ে ওঠা,পুনরুদ্ধার ও পুনর্মিলন প্রচেষ্টার কথাও স্মরণ এবং স্বীকার করি। এবং আমরা লজ্জাবনত মস্তকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার কথাও স্মরণ করি।’
সেই হত্যাকাণ্ডের সময় যা ঘটে গেছে, আমাদের তা অবশ্যই মনে রাখতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও যেন মনে রাখে, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য যে কত সহজে বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের রূপ নিতে পারে, তা অনুধাবন করতে হবে। বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য হলো গণহত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টিকারী মূল উপাদানগুলোর একটি বলেও জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।
তিনি আরও বলেন, নিদারুণ নিষ্ঠুরতার মধ্যে আত্মপ্রসাদ যে কতটা আগুনে ঘি ঢালতে পারে, তাও আমাদের অনুধাবন করতে হবে। আমাদের অনুধাবন করতে হবে, আমরা নিজেরাসহ বিশ্বের কোনেও জায়গা, কোনও সময়ই বিপদমুক্ত নয়। গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অন্যান্য গুরুতর লঙ্ঘন প্রতিরোধের দায়িত্ব সবার ওপর সমানভাবে বর্তায়। জাতিসংঘের প্রতিটা সদস্যের এটাই মূল দায়িত্ব।









