রাজধানীর বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আগামী বুধবার (১২ এপ্রিল) থেকে চৌকি বিছিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
রবিবার (৯ এপ্রিল) বিকালে নগর ভবনে বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘আমরা সোমবার (১০ এপ্রিল) সকাল থেকে পরিষ্কার কার্যক্রম আরম্ভ করবো। যাতে করে আগামী ১-২ দিনের মধ্যে সেখানে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এরই মাঝে তালিকা প্রণয়ন শুরু হলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা যায়নি। আমরা আশা করছি, আগামীকালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তালিকার সম্পন্ন হবে। এছাড়া তাদেরকে পুনর্বাসনের জন্য সব মহল থেকেই আমরা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। এরই মধ্যে ২ কোটি টাকা তহবিলে জমা হয়েছে।’
তাপস বলেন, ‘আগামী মঙ্গলবার আমাদের করপোরেশনে সভা আছে। সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। আমরাও এই তহবিলে অংশগ্রহণ করবো। যাতে করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পুনর্বাসিত হতে পারেন এবং আশা করছি যে, আগামী মঙ্গলবারে না হলেও বুধবার নাগাদ যেন তারা সেখানে চৌকি বিছিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এজন্য পরিষ্কার করার পরে সেই জায়গাটা সমতল করবো। পুরো ব্যবস্থাটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপেরেশন করে দেবে। তারপর চৌকি বিছিয়ে তারা সেখানে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।’
এ সময় সমাজের সব স্তরের মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘আমরা সবার কাছে আবেদন করছি— মানবিক দিক বিবেচনা করে, এত সংখ্যক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবনযাপন বিবেচনা করে সবাই যেন এগিয়ে আসে। এই তহবিলে যেন অংশগ্রহণ করে। এটা যেহেতু রমজান মাস, তাই মানবতার খাতিরে সবাই যেন এগিয়ে আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পর্যাপ্ত অনুদানের ব্যবস্থা করবেন। আমরা আশাবাদী, যেভাবে আমরা সাড়া পাচ্ছি— তাতে অচিরেই, হয়তো বা এই সপ্তাহের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ রূপ আমরা দিতে পারবো। সবাই মিলে তহবিল গঠন করবো। এতে আমাদের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।’
ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও মার্কেট কমিটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে। টেম্পোরারি ব্যবস্থা হচ্ছে। তহবিল যেটা হচ্ছে, সবাই আশাবাদী যে, এটা একটা বড় আকার ধারণ করবে। আর প্রধানমন্ত্রী এর সঙ্গে যখন যুক্ত হবেন, তা সবার জন্যই একটি বড় ধরনের সহায়তা হবে বলে আমরা আশা করি।’
এ সময় বারংবার অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা এড়াতে করণীয় নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘এখানে সবারই দায়িত্ব রয়েছে। যেমন সরকারের দায়িত্ব রয়েছে, করপোরেশনের দায়িত্ব রয়েছে, তেমনই যারা মার্কেট পরিচালনা করেন, তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অন্যান্য দায়িত্ব রয়েছে তো বটেই। সেজন্য সচেতনতা হচ্ছে সবচেয়ে বড় বিষয়।’
বৈঠকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামান, পরিবহন মহাব্যবস্থাপক হায়দর আলী, ডিএসসিসি অঞ্চল-১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মেরীনা নাজনীন, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ রতন, মহানগর শপিং কমপ্লেক্সের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান, মহানগরী ইউনিটের সভাপতি মো. লোকমান খান, মহানগর কমপ্লেক্সের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মো. শাকিল, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মেয়রের সঙ্গে কথা বলে আজ আমরা খুবই আনন্দিত। এত দ্রুত সিদ্ধান্ত পাবো, আমরা কিন্তু বুঝি নাই। আমরাও প্রথমে ভেবেছিলাম— দুয়েক দিনেই পরিষ্কার করা যাবে। কিন্তু যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই আগুন। ফলে নতুন করে আবার পানি দিয়ে নেভাতে হচ্ছে। এই কারণে সরাতে সমস্যা হচ্ছে। আগুনসহ ট্রাকে তোলা যাবে না। এটা ঝুঁকিপূর্ণ।’









