শুক্রবার বই মেলা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই মেলায় এসেছে রাতুল-পুতুল। বাবা-মার সঙ্গে আসা দুই ভাই বোনের সারাটা দিনই কেটেছে মেলায়। সকালে মেলায় ঘোরাঘুরির পর দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেনা বই পড়তে দেখা গেল দুজনকে। রাতুল-পুতুলের মতো অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৯তম দিনের সারা বেলাই দখল করে রাখলো মেলায় আসা শিশুরা। ছুটির দিন হওয়ায় উপচে পড়া ভিড়ে শিশুদের সঙ্গে একাত্ব হয়ে সাদাকালো পোশাকে মেলায় যেন একটু একুশের ছোঁয়া দিলেন বড়রা।
শুক্রবার মেলার প্রথম পর্ব শুরু হয় সকাল ১১টায়। এ সময় মেলা ঘুরে চোখে পড়ে রং-বেরংয়ের পোশাকে আসা শিশুদের উপস্থিতি। কেউ বই খুলে চোখ বুলাচ্ছে ছবির উপর, আবার কারও সমস্ত মনোযোগ যেন বইয়ের গল্প পড়ায়। দুপুর ১২টায় মেলায় শিশুদের বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উপস্থিত হয় সিসিমপুরের হালুম,ইকরি আর টুকটুকি। আর তাতে মেলায় আসা শিশুদের সব পথও যেন মিলে যায় সিসিমপুর চত্বরে। হালুম, ইকরি আর টুকটুকির সঙ্গে বিভিন্ন খেলায় মেতে উঠে শিশুরা।
শিশুদের ঠিক কোন ধরনের বই কিনছে তারা জানতে চাইলে প্রগতি প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান জানান, মেলায় বাচ্চাদের এবার পপ-আপ, ডাই কাটিং ও ফ্লিপবুকের প্রতি আগ্রহই বেশি দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া অন্য বইগুলোও কিনছে অনেকে।
তবে মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখা গেল শিশুদের বই পছন্দের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের প্রভাবটাই যেন একটু বেশি। পাঠ্যপুস্তকের সঙ্গে মিল আছে এমন বই-ই বেশি কিনে দিচ্ছেন শিশুদের।
এ প্রসঙ্গে বাচ্চাদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসা প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরিজীবী আমিনুর রহমান বলেন, বাচ্চারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী বই কিনছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে তাদেরকে একটু গাইড করতে হচ্ছে। মজার বইয়ের পাশাপাশি যেগুলো একটু তাদের স্কুলের পড়ার বইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেগুলোও কিনে দিচ্ছি।
ঘাস ফড়িং প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি হাম্মাদুর রহমান সোহাগ বলেন, মেলায় শিশুরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী বই কিনছে। তবে কিছু বই যেমন ছবি আঁকা, সাধারণ জ্ঞানের বই কেনার ক্ষেত্রে অভিভাবকরাই পছন্দ করে দিচ্ছেন।
সারাদিন জুড়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিশুদের আধিপত্য থাকলেও মেলায় বাংলা একাডেমির অংশ ছিল বড়দের দখলে। বিকেল থেকে মেলায় বড়দের ভিড় বাড়তে থাকে। তবে তখনও শিশুদের নিয়ে এসেছেন অনেকে। একদিন পর একুশে ফেব্রুয়ারি হওয়ায় তার ছোঁয়াও চোখে পড়ল দর্শনার্থীদের পোশাকে। আর ছুটির দিন হওয়ায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও ছিল বাঁধভাঙ্গা। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলায় প্রবেশের গেট থেকে শুরু করে লাইন ছাড়িয়েছিল টিএসসি ও দোয়েল চত্বরের মূলগেটও।
তবে মেলা সংশ্লিষ্ঠরা আশা করছেন দর্শনার্থীদের এমন ভিড়ের দেখা মিলবে আগামী একুশে ফেব্রুয়ারির দিনেও।
শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতা
অমর একুশে উদযাপন উপলক্ষে শুক্রবার সকাল ১০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী। বিচারকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে ছিলেন শিল্পী কল্যাণী ঘোষ, সুজিত মোস্তফা ও আবু বকর সিদ্দিক। প্রতিযোগিতায় ক-শাখায় প্রথম হয়েছে তাহসিন রহমান, দ্বিতীয় হয়েছে সুদীপ দত্ত অহন এবং তৃতীয় হয়েছে ফাবিহা লামিছা তাহা। খ-শাখায় প্রথম হয়েছে নিপা আক্তার মীম, দ্বিতীয় হয়েছে অগ্নিতা শিকদার মুগ্ধ এবং তৃতীয় হয়েছে নামিরা মুশকান (শান্তনা)। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতা কমিটির আহ্বায়ক রহিমা আখতার কল্পনা।
নতুন বই
শুক্রবার মেলায় মোট নতুন বই এসেছে ২৩৬টি। এরমধ্যে গল্প ৩৪টি, উপন্যাস ৪০টি, প্রবন্ধ ১০টি, কবিতা ৫৪টি, গবেষণা ৩টি, ছড়া ৫টি, শিশুসাহিত্য ৯টি, জীবনী ৬টি, রচনাবলি ১টি, মুক্তিযুদ্ধ ৯টি, বিজ্ঞান ৭টি, ভ্রমণ ৪টি, ইতিহাস ৬টি, রাজনীতি ১টি, চি:/স্বাস্থ্য ১টি, রম্য/ধাঁধা ৫টি, ধর্মীয় ৪টি অনুবাদ ৩টি, সায়েন্স ফিকশন/গোয়েন্দা ৩টি ও অন্যান্য প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৩১টি।
শনিবারের অনুষ্ঠানসূচি
আগামীকাল শনিবার মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণ : সমস্যা ও সম্ভাবনা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মফিদুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন বদিউর রহমান, গোলাম কুদ্দুছ এবং শুভাশিস সিনহা। সভাপতিত্ব করবেন কামাল লোহানী। এছাড়া প্রতিদিনের মতো সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
/এসআর/এসএম/








