সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক নীতি প্রণয়নসহ বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এটি ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গোষ্ঠীনির্বিশেষে বাংলাদেশের সব নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য। আমাদের দেশের সংবিধানেও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ এপ্রিল) বিকালে চীনের শানসি প্রদেশের জিয়ান সিটিতে ‘সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবিষয়ক এশীয় জোট’-এর (এসিএইচএ) সাধারণ পরিষদের কাউন্সিল সভায় পর্যবেক্ষক দেশের প্রতিনিধি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ইউনেসকোর বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন, প্রটোকল, চার্টার এবং নির্দেশিকা অনুসমর্থন করেছে। ৪৪টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক রয়েছে বলে জানান তিনি।
কে এম খালিদ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং সেগুলোকে আমরা বিশ্বদরবারে তুলে ধরছি। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিষয়ক এশীয় জোটের এ প্রতিষ্ঠা সমাবেশ বাংলাদেশের পাশাপাশি এশীয় মহাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষায় আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে, যা প্রকারান্তরে সাংস্কৃতিক ভারসাম্যপূর্ণ টেকসই বাংলাদেশ ও এশিয়া গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশকে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য এসিএইচএ কাউন্সিলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং এসিএইচএর সব নতুন সদস্য রাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রগুলোকে অভিনন্দন জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত এশীয় সভ্যতা সংলাপবিষয়ক সম্মেলনে (কনফারেন্স অন ডায়ালগ অব এশিয়ান সিভিলাইজেশন) চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এশিয়াজুড়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রস্তাব করেছিলেন। ২৭ থেকে ২৮ অক্টোবর ২০২১ মেয়াদে ‘সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিষয়ক এশিয়ান ডায়ালগ’ সফলভাবে আয়োজিত হয় এবং এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি অনলাইনে সংলাপে অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় চীন, আর্মেনিয়া, কম্বোডিয়া, ডিপিআরকে (উত্তর কোরিয়া), ইরান, কিরগিজিস্তান, পাকিস্তান, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেনসহ এশিয়ার ১০টি দেশ যৌথভাবে অ্যালায়েন্স ফর কালচারাল হেরিটেজ ইন এশিয়া (এসিএইচএ) বা ‘সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিষয়ক এশীয় জোট’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবিষয়ক সহযোগিতার জন্য একটি আন্তঃসরকারি ব্যবস্থা হিসেবে এসিএইচএকে একীভূত করার জন্য চীন ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত শানসি প্রদেশের জিয়ান সিটিতে এসিএইচএ প্রতিষ্ঠা পরিষদের আয়োজন করেছে, যেখানে এশিয়ার ২০টি দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্য কর্তৃপক্ষ থেকে মন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং প্রাসঙ্গিক প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞসহ প্রায় ১০০ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।









