রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বধ্যভূমি এলাকায় ২ জাপানি নাগরিকের কাছ থেকে টাকা-পয়সা এবং মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণে যায় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা। ঢাকার মোহাম্মদপুর ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানতে পারে পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর শ্যামলীর খিলজি রোডে তেজগাঁও বিভাগ উপ-পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপ-পুলিশ কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক।
তিনি জানান, মামলাটি তদন্তকালে জানা যায়, জাপানি ২ নাগরিক ২১ এপ্রিল বাংলাদেশে আসে। তারা ২৪ এপ্রিল শুক্রাবাদ এলাকার হোটেল নন্দিনীতে ওঠে। সে দিন রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ ও সংলগ্ন কবরস্থানে ঘুরতে আসে। রাত প্রায় ৯টায় জাপানি নাগরিকরা কবরস্থান থেকে বের হতে চাইলে একাধিক যুবক তাদের মিস গাইড করে কবরস্থানের ভেতরের দিকে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে পাসপোর্ট, ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ জাপানি ইয়েন, বাংলাদেশি ২৮ হাজার টাকা, ২টি আইফোন, ২টি ক্রেডিট কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেল্থ কার্ড, ১টি পোর্টেবল হটস্পট ও ১টি বুটুথ ছিনিয়ে নেয়। জাপানি নাগরিকরা ভয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরদিন হোটেল ম্যানেজারকে বিষয়টি জানায়। হোটেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে।
উপ-পুলিশ কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক আরও জানান, ২ জাপানি নাগরিক ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার বিষয়টি মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় দে সজলের নির্দেশনায় মোহাম্মদপুর থানার একটি টিম ঘটনাস্থল কবরস্থানের গেট ও আশেপাশে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ, প্রযুক্তির সহায়তা ও সোর্সের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ঘটনায় জড়িত চক্রটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরে ২৭ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানার বোটঘাট এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত আসামি মো. খায়রুল ইসলাম স্বপনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত স্বপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়ের বাজার শুটকির আড়তের পেছনে কবরস্থানের দেয়াল সংলগ্ন মাঠ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া জাপানি নাগরিকের পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলথ কার্ড, ২টি ক্রেডিট কার্ড ও ১টি পাসপোর্ট ছেড়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মোহাম্মদপুর থানার অপর একটি টিম অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানা এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত আসামি জিহাদুল ইসলাম মামুন (১৯) ও মো. আবু রাসেল প্রত্যয়কে (২২) গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের কাছ থেকে ১টি আইফোন, ৩০ হাজার জাপানি ইয়েন, ১টি পোর্টেবল হটস্পট ও ১টি বুথ উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জিহাদুল ইসলাম মামুন ও মো. আবু রাসেল প্রত্যয় ছিনতাইকৃত ৯০ হাজার ইয়েন ও অন্যান্য মালামালসহ প্রমোদ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার চলে যায়। সেখানে তারা কিছু ইয়েন ভাঙিয়ে খরচ করে। কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে তারা সীতাকুণ্ড জলপ্রপাত দেখার উদ্দেশ্যে সীতাকুণ্ড পৌঁছালে মোহাম্মদপুর থানার একটি টিম তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আবু রাসেল প্রত্যয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনের মামলাসহ মোট ৩টি মামলা রয়েছে। ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতার ও ২ জাপানি নাগরিকের ছিনতাই হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।









