গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিজ্ঞান ও মহাপরিনির্বাণ (মৃত্যু) লাভ—এ তিন ঘটনার স্মৃতিবিজড়িত দিবসটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে প্রধান ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পরিচিত। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বের সকল অশান্তি দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানবজাতির সর্বাঙ্গীণ শান্তি ও মঙ্গল কামনায় শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে ধর্মাবলম্বীরা।
বৃহস্পতিবার (৪ মে) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা জাতীয় সম্মিলিত শান্তি শোভাযাত্রা ও সম্প্রীতি উৎসব’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদ।
আয়োজন উপলক্ষে এদিন সকাল সাড়ে আটটার আগ থেকেই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা শাহবাগে জড়ো হন। বেলা ৯টার দিকে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য পরিবেশ বিরাজ করছে। বাংলাদেশের জন্মের চেতনার সঙ্গে আমাদের সকলের চেতনা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। গৌতম বুদ্ধের যে বাণী, জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক। অহিংসার যে অমিয় বাণী তিনি প্রচার করে গেছেন৷ অশান্তির বিরুদ্ধে শান্তির যে সুধা তিনি তার বাণীর মাধ্যমে প্রচার করে গেছেন। আজকের বিশ্বেও তা প্রাসঙ্গিক। এটি সমকালের, এটি ভাবীকালের, এটি বর্তমানের। এটি কোনোদিনও অনুজ্জ্বল হবে না। এটি চিরদিনই আমাদের অন্তরে সুন্দের, শান্তির প্রদীপ জ্বালিয়ে যাবে, এটিই আমাদের প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, অনেক রক্তমূল্যে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীনতার অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও আমাদের রাজনীতি এখনও বিশুদ্ধ, হিংসামুক্ত—এ কথা আমরা দাবি করতে পারি না। রাজনীতিতে ইতিবাচক ধারার পাশাপাশি নষ্ট ধারাও আছে। এর জন্য সমাজের মানুষের শান্তির আকাঙ্ক্ষা পদে পদে বিনষ্ট হচ্ছে। বিভেদের রাজনীতির প্রয়োজন নেই। রাজনীতিতে বিভেদ থাকলে সব নস্যাৎ হয়ে যাবে। গৌতম বুদ্ধের শান্তি ও অহিংস বাণী সারা বিশ্বে সম্প্রীতির সুবাতাস বয়ে আনুক। সে পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব আমাদের। আমরা হিংসা, হানাহানি, রক্তপাত, সন্ত্রাস, রাজনীতিতে আগুন সন্ত্রাস চাই না। আমরা শান্তি চাই, শান্তির সুবাতাস চাই। অসুস্থ, সন্ত্রাস ও সহিংসতার রাজনীতিকে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করবো৷
ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, বর্তমান সরকার সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার মর্যাদা দিয়েছেন। জাতির পিতাকে হত্যার পর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে খণ্ডবিখণ্ড করা হয়েছে। বর্তমানে সকল ধর্মের মানুষ নিঃসঙ্কোচে তাদের ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ পাচ্ছেন৷ পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশ সফরের পর বলেছিলেন, বাংলাদেশ কেবল উন্নয়নের রোল মডেল নয়, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও রোল মডেল। আজকে বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক, আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পথচলা সুনিশ্চিত করবো, নিরাপদ রাখবো।
এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী দিব্যেন্দু বিকাশ চৌধুরী বড়ুয়া। অনুষ্ঠান শেষে শান্তি শোভাযাত্রা বের করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন—পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘের সভাপতি ভদন্ত শ্রীমৎ প্রজ্ঞানন্দ মহাথের, ঢাকা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ ধর্মমিত্র মহাথের, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ভদন্ত শ্রীমৎ বুদ্ধাপ্রিয় মহাথের, আশুলিয়া বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ভদন্ত শ্রীমৎ আসীন জিনরক্ষিত মহাথের, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে এলো ভৌমিক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য রেমন্ড আরেং, নন্দা কালাচাঁদপুর প্রজ্ঞানন্দ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ সুনন্দপ্রিয় ভিক্ষু, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস-চেয়ারম্যান সুপ্ত ভূষণ বড়ুয়া।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের মহাসচিব ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি ঢাকা অঞ্চলের সভাপতি বাবু দীপাল চন্দ্ৰ বড়ুয়া, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি নেত্রসেন বড়ুয়া, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান দয়াল কুমার বড়ুয়া, চিন্ময় বড়ুয়া রিন্টু,প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়া, ব্যারিস্টার প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া, রাহুল বড়ুয়া প্রমুখ।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন









