সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করার নোটিশ দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এর মধ্যে রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজের ছয়তলা একটি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে ভবনটি খালি এবং ৩ মাসের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে নানা কারণে রাজউকের দেওয়া এক সপ্তাহের সময়সীমা আমলে নিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। যার ফলে এখন পর্যন্ত কোনও ভবনই খালি করা হয়নি।
রাজউক কর্তৃক ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত কবি নজরুল কলেজের ছয়তলা ভবনের নিচতলা স্নাতক শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় তলায় কলেজের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্নার রয়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় যথাক্রমে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের একাডেমি ক্লাসরুম ও সেমিনার এবং ষষ্ঠ তলায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি খালি করা ও ভাঙ্গার বিষয়ে কবি নজরুল সরকারি কলেজের হেড ক্লার্ক আহাম্মেদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এই ভবনটি খালি করলে আমাদের আরও বেশি বিপাকে পড়তে হবে। তাছাড়া রাজউক থেকে আমরা এখনও কোনও নোটিশ হাতে পাইনি। নোটিশ পেলে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
কবি নজরুল কলেজ ছাড়াও পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম স্কুল ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে আরবান রিজিলিয়েন্স প্রকল্পের (ইউআরপি) আওতায় ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে স্কুলের তিনটি ভবন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাজউক। যে ভবনগুলো এ মুহূর্তে ল্যাব, শ্রেণিকক্ষ ও মিলনায়তন হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে রাজউকের কাছ থেকে চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং জায়গা সংকটের বিষয় তুলে ধরেন।
মূলত রাজউকের পক্ষ থেকে পুনর্বাসনের কোনও বিকল্প না দেওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত এই ভবন খালি করার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘রাজউক থেকে আমরা চিঠি পেয়েছি। কিন্তু আমাদের তো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এই ভবন খালি করে দিলে আমরা ক্লাস নেবো কোথায়? এই ভবন খালি করে দিলে আমাদের একাডেমিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটবে। এ নিয়ে কী করা যায়, আমরা দেখছি।’
রাজধানীর ৩ হাজার ২৫২টি স্থাপনার সমীক্ষা করে ৪২টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রকল্পের পরিচালক আব্দুল লতিফ হেলালী বলেন, ‘অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট যে কেউ চাইলে তৃতীয় পক্ষের মতামত নিতে পারে।’
এতো সংক্ষিপ্ত সময়ে ভবন খালি ও ভাঙার কারণ জানতে চাইলে হেলালী বলেন, ‘আমরা তাদের ঝুঁকির কথা জানিয়েছি এবং এখন যেকোনও দুর্ঘটনা রোধে উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তবে এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভবনগুলো খালি করে ফেলা।’
এর আগে রাজউকের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান মিয়া বলেন, ‘যে ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, সেগুলোকে ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে, তারা সবাই রাজউকের নোটিশ পেয়েছে। আমাদের কাছে প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ ও রয়েছে।’
উল্লেখ্য, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো রাজউক সরাসরি নোটিশ প্রেরণ করেছে। স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর ও মাদ্রাসা বোর্ডের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।









