কোম্পানির মুনাফার অংশ আনুপাতিক হারে প্রদান এবং চাকরি স্থায়ী করার দাবি জানিয়েছে শেভরন বাংলাদেশ ব্লকস থার্টিন অ্যান্ড ফরটিন লিমিটেডের শ্রমিকরা। রবিবার (২১ মে) ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে শেভরন ব্লকস থার্টিন অ্যান্ড ফরটিন লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুসফেক উস সালেহীন খাঁন বলেন, শেভরন কোম্পানিতে আমাদের অনেকেরই চাকরির বয়স ১২ থেকে ২৪ বছর। এখানকার অনেক কর্মী অনেক বছর ধরে কাজ করেও চাকরিতে স্থায়ী হননি এবং সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা পাননি।
তিনি বলেন, শেভরন ২০০৫ সালে বাংলাদেশে আসে। তখনকার শ্রম আইনের বিধানমতে তিন থেকে ছয় মাস চাকরি করার পর শেভরন কর্তৃপক্ষ আমাদের অস্থায়ী নিয়োগপথ, পরিচয়পত্র ও কাজের উপকরণ দেয়। কিন্তু আইন অনুযায়ী আজ পর্যন্ত আমাদের স্থায়ী নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। সমস্যা সমাধানের জন্য ২০১৫ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০০ শ্রমিক শ্রম আদালতে পৃথক পৃথকভাবে মামলা করে। সে মামলা এখনও বিচারাধীন। শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী মামলা চলাকালীন সময়ে বিরোধে যুক্ত কোনও শ্রমিকের চাকরির শর্তাবলীতে কোনও পরিবর্তন না আনা গেলেও সে বিধান লঙ্ঘন করে শেভরন সম্প্রতি ১৩০ জন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছে। শ্রম আইনের বিধান না মেনে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কথিত এক ঠিকাদারের মাধ্যমে আমাদের টার্মিনেট করা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, আমাদের এসব ভোগান্তির পেছনে রয়েছে দেশি-বিদেশি কিছু কর্মকর্তা-সুপারভাইজার। তারা নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদার কোম্পানি বানিয়ে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। আমরা যখন শেভরনের চাকরিতে যোগদান করি তখন কোনও ঠিকাদার সংস্থার মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগের আইনি বিধান ছিল না। কিন্তু ২০১৫ সালে শেভরন আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের বিধান তৈরি করেছে, যা কেবল সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
শেভরন আইন অমান্য করেও সেন্ট্রি সিকিউরিটি সার্ভিস ও প্রপার্টি কেয়ার বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড নামে দুটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক অবৈধ চুক্তি করে আমাদের সে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক বানানোর অপচেষ্টা করছে। যার কোনও আইনগত বৈধতা ও কার্যকারিতা নেই।
সুতরাং আমাদের দাবি, চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের নিজ নিজ পদে পুনর্বহাল, প্রথম যোগদানের তারিখ বিবেচনায় শেভরনের স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি, নিয়োগপত্র প্রদান এবং কোম্পানির মুনাফার অংশ দেওয়া হোক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শেভরনের সিলেট, মৌলভীবাজার, বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীরা।









