রংপুরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক শিশুকে পার্কে ঢুকতে না দেওয়ার ঘটনায় পার্কটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিশেষ চাহিদা-সম্পন্নদের পার্ক, বিনোদন পার্ক, শপিং কমপ্লেক্স, মার্কেট, রেস্টুরেন্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকার এবং বিশেষ যন্ত্রপাতি ও হুইল চেয়ার চলাচলের জন্য র্যাম্প রাখার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র, রংপুরের জেলা প্রশাসক, চিকলী ওয়াটার পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এসব রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি পার্কটিতে ঢুকতে জেলা প্রশাসকের কাছে যে আবেদন করা হয়েছে, তা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি নিয়ে রবিবার (২১ মে) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে রিটকারী আইনজীবী তনয় সাহা শুনানি করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল সেলিম আজাদ।
এর আগে গত ৭ মে দৈনিক বাংলায় ‘পার্কে ঢুকতে দেওয়া হলো না বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে এ রিট করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের দুই জন আইনজীবী জনস্বার্থে এ রিটটি দায়ের করেন।
রিট আবেদনে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’ অনুসারে চিকলী ওয়াটার পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে কেন প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— এই মর্মে রুল জারির আরজি জানানো হয়। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদা-সম্পন্নদের পার্ক, বিনোদন পার্ক,শপিং কমপ্লেক্স, মার্কেট, রেস্টুরেন্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকার এবং বিশেষ যন্ত্রপাতি ও হুইল চেয়ার চলাচলের জন্য র্যাম্প রাখার নিশ্চয়তা কেন দেওয়া হবে না এবং সরকারি পার্কে একজন অভিভাবকসহ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ, রাইডের ব্যবহার এবং বেসরকারি পার্কে ৫০ শতাংশ ছাড়ে প্রবেশের সুযোগ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না মর্মে রুল জারির আরজি জানানো হয়।
দৈনিক বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘১০ বছর পার করে কেবল ১১-তে পড়েছে আল আয়মান ইয়ানাত। সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ইয়ানাত মা-বাবার একমাত্র সন্তান, পরিবারের সঙ্গে থাকে রংপুরে। কন্যা ইয়ানাতকে নিয়ে মা রিজা রহমানের সংগ্রাম সেই ছোট্ট থেকে। সেই সংগ্রামে মা-মেয়ে কখনও ক্লান্ত হননি, কোথাও হেয় হতে হয়নি। বরং সব প্রতিকূলতাকে জয় করে পথ চলেছেন এতগুলো বছর। কিন্তু এবার একটু থমকে গেছেন তারা।’
‘রংপুরের চিকলী ওয়াটার পার্কে গিয়ে ইয়ানাত এবং তার মা রিজা রহমানকে হতে হয়েছে অপমানিত। শত শত মানুষের সামনে পার্ক কর্তৃপক্ষ মা-মেয়েকে অপমান করেছে, হেনস্তা করেছে। আর এর প্রতিবাদ হিসেবে মা রিজা রহমান রংপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তার দাবি, দেশের আর কোনও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে যেন এমন হেনস্তার মধ্যে পড়তে না হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে যেসব বিশেষজ্ঞ কাজ করেন তারা বলছেন, এটা স্পষ্টত দেশের সংবিধান এবং আইনের পরিপন্থি। যারা এই কাজ করেছেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেছেন তারা।’
প্রতিবেদনের এ সংক্রান্ত আইনের ব্যাখ্যাও তুলে ধরা হয়, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন,২০১৩ এর ২৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকারগুলো যাতে তারা যথাযথ সহজ উপায়ে ভোগ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে সব সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, আপতত বলবৎ অন্য কোনও আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, জাতীয় সমন্বয় কমিটি কর্তৃক প্রণীত নীতি ও প্রদত্ত নির্দেশনা ও অন্যান্য কমিটি কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত ও প্রদত্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণ ও স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচি বা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।’









