বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন- ২০১৩’ এর আওতায় জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোতে (বিএমইটি) ‘কার্যকর আরবিট্রেশন সেল’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৩১ মে) পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাবের সভাকক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ), প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এবং অভিবাসন ও উন্নয়ন সংক্রান্ত সংসদীয় ককাসের সদস্যদের সঙ্গে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন- ২০১৩’ এর আওতায় জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোতে (বিএমইটি) ‘কার্যকর আরবিট্রেশন সেল’ শীর্ষক মতবিনিময়ের লক্ষ্যে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে ও হেলভেটাস বাংলাদেশ-এর কারিগরি সহযোগিতায় সিস প্রকল্পের ‘এক্সেস টু জাস্টিস’ কার্যক্রমের আওতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও অভিবাসন সংক্রান্ত সংসদীয় ককাসের উপদেষ্টা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
অভিবাসন ও উন্নয়ন সংক্রান্ত সংসদীয় ককাসের সভাপতি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এই আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘যে জনগোষ্ঠী বিশেষ করে অভিবাসন কর্মী দেশের অর্থনীতির চাকা সচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে, তাদের জন্য জাতীয় বাজেট খুবই সামান্য। উপরন্তু, অভিবাসন কর্মীদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য আলাদা ও স্বাধীন সেল নাই।’ তিনি বিএমইটি’তে আলাদা আরবিট্রেশন সেল গঠন ও কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনে বাজেট রাখার ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘বর্তমানে বিএমইটি’র কর্মকর্তারাই সালিশকারীর ভূমিকা পালন করে থাকেন। ফলে অভিবাসী কর্মীরা স্বাধীনভাবে অভিযোগ করতে পারেন না। এটা তার ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময়ই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।’ তিনিও বিএমইটি’তে আলাদা ও দক্ষ আরবিট্রেশন সেল গঠনের জন্য সুপারিশ করেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ বক্তব্যে অভিবাসী কর্মীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে ‘বিএমইটি’তে আলাদা ও দক্ষ আরবিট্রেশন সেল গঠনের জন্য মতামত প্রদান করেন।
অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার অভিবাসী কর্মীদের অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। প্রতারণার শিকার অভিবাসী কর্মীদের প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানে বা প্রতিকার প্রাপ্তির জন্য বিএমইটি-এর অধীনে সালিশের জন্য আলাদা দক্ষ ও প্রশিক্ষিত লোকবল থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান সম্ভব হতো।’
আলোচনায় বিএমইটির কর্মকর্তা, হেলভেটাস বাংলাদেশ, আইওএম, অকুপ, রামল, প্রত্যাশী, ওয়ারবিসহ অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।









