রাজধানীর বনানীতে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ সড়ক ধরে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন চিকিৎসক এটিএম মাহবুবুল আলম। এসময় পঞ্চাশোর্ধ এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তার কাছে সৌদি রিয়াল কোথায় ভাঙানো যায় জানতে চান। ডা. মাহবুবুল পাশে থাকা একটি মানি এক্সচেঞ্জ পয়েন্ট দেখিয়ে দেন। নিজেকে সিরাজ নামে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি তাকেও সঙ্গে যাওয়ার অনুরোধ করেন। বয়স্ক ব্যক্তি দেখে তাকে বিশ্বাস করেন মাহবুবুল। এতেই কাল হয় তার। পরে ফাঁদে পড়ে নিজেই কিনে নেন সেসব রিয়াল। আর গামছা দিয়ে মোড়ানো ব্যাগ বাসায় এসে খুলে দেখেন ভেতরে কোনও রিয়াল নেই। অভিনব কৌশলে তার কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। ঢাকাতেই এমন প্রায় অর্ধশত প্রতারক চক্র রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনার পর ২৫ মার্চ ডা. মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে বনানী থানায় প্রতারণার একটি মামলা করেন। তদন্তে নেমে আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের মূলহোতা সেই সিরাজসহ (আসল নাম মিরাজ তালুকদার) ৬ জনকে গ্রেফতার করে বনানী থানা পুলিশ। এর মধ্যে ২ জনকে নেওয়া হয় রিমান্ডে। বর্তমানে আসামিরা কারাগারে রয়েছেন।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন- লিয়াকত, মিরাজ তালুকদার, আহাদ শেখ, হায়দার মৃদা, মফিজুল মিয়া ও ইমারাত মোল্লা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুর উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই ঘটনায় ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে মূল হোতাকে আমরা গ্রেফতার করতে পেরেছি। মামলার তদন্ত চলতেছে। শিগগিরই আদালতে চার্জশিট দেবো।
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা শহরে এদের মতো প্রায় ৫০টি প্রতারক চক্র রয়েছে। তাদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ওরা মূলত মানুষকে লোভে ফেলে এমন প্রতারণা করে থাকে।’
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন ডা. মাহবুবুল বনানীতে সিরাজ পরিচয় দেওয়া মিরাজ তালুকদারকে সহায়তা করতে মানি এক্সচেঞ্জে যান। ওই মাহবুবুলের সামনেই প্রথমে ১০০ রিয়াল পরিবর্তন করে টাকা নিয়ে বের হন। এরপর ডা. মাহবুবকে জানান, তার কাছে আরও বেশ কিছু সৌদি রিয়াল রয়েছে। ১০ লাখ টাকার রিয়াল মানি এক্সচেঞ্জের চেয়ে একটু কম মূল্যে ৯ লাখ টাকায় দিতে পারবেন। তখন মাহবুবের মনে হয়, তার বোনও হজের জন্য সৌদি আরব যাবেন। তাই তার সৌদি রিয়াল প্রয়োজন। আর সেকারণে সিরাজের কাছ থেকে রিয়াল নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সিরাজ মাহবুবকে ফোন নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন।
এর প্রায় দুই সপ্তাহ পরে ডা. মাহবুব ১ মার্চ রিয়াল নেওয়ার জন্য সিরাজকে আসতে বলেন। কথামতো কামাল আতাতুর্ক রোডের এবিসি টাওয়ারের নীচে আসে প্রতারক সিরাজসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ জন। এরপর ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে ডা. মাহবুবকে একটি বড় ব্যাগ দেন। ব্যাগে ১০ লাখ টাকার রিয়াল আছে জানিয়ে পুলিশ বা ছিনতাইকারীদের খপ্পরে পড়তে পারে বলে বাসায় গিয়ে খুলতে বলেন প্রতারক সিরাজ। তার কথামতো বাসায় গিয়ে ব্যাগ খুলে ডা. মাহবুব দেখেন, পুরো ব্যাগ মোটা পেপার আর গামছা দিয়ে মোড়ানো। ভেতরে কোনো রিয়াল নেই। তাৎক্ষণিক প্রতারকের নম্বরে ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এভাবে অভিনব কায়দায় ডা. মাহবুবের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে প্রতারক চক্রটি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ডা. মাহবুবুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার বিষয়ে চক্রটি হয়তো আগে থেকেই জানতো। আমাকে হয়তো তারা হেপনোটাইজ করেছিল, আমি বুঝতে পারিনি। তা না হলে ব্যাগ খুলে দেখলাম না কেন। আমার ঘটনায় যেন সবাই সজাগ হয়।’









