পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে সারা বিশ্ব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পরিবেশ দূষণ জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনীতিতেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সম্মিলিতভাবে পরিবেশ দূষণ রোধে কাজ করতে হবে। সোমবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘আওয়াজ ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে এসব কথা বলেন বক্তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বনভূমির গাছপালা কেটে ফেলা, শিল্প কলকারখানার ধোঁয়া ও দূষিত বর্জ্য পদার্থ প্রকৃতির সঙ্গে মিশে পরিবেশকে মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো পোশাকশিল্পেও পরিবেশ দূষণের প্রভাব বহুদিন ধরে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ ধরনের পরিবেশ দূষণের ফলে কারখানার আশেপাশে যেসব শ্রমিকরা থাকেন তাদের খাবার, তাপমাত্রা ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ খুবই নোংরা। এ কারণে তারা প্রায়ই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। কারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক বর্জ্য ও অপরিচ্ছন্ন কর্মপরিবেশের কারণে তারা বিভিন্ন পেশাগত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
তারা আরও বলেন, গ্রিন ডেভেলপমেন্ট নিয়ে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো বেশ সোচ্চার। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও পরিবেশ উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ সময় তারা পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন। তাদের সুপারিশগুলো হলো– পরিবেশ রক্ষায় সবার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, গ্রিন ডেভেলপমেন্ট নিয়ে আরও কাজ করতে হবে, শিল্প-কারখনার বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে সরকারি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, পাহাড় ও গাছপালা কেটে, নদী-নালা ভরাট করে শিল্পকারখানা ও স্থাপনা নির্মাণ রোধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, পরিবেশ আইন অমান্যকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে, বায়ার ও ব্র্যান্ডকে পরিবেশবান্ধব শিল্পকারখানা তৈরিতে দায়িত্ব ও গ্রহণের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে, প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার রোধে মালিক, শ্রমিক, বায়ার, ব্র্যান্ড, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থা ও সরকারকে সম্মিলিতভাবে কাজ করে পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে, পরিবেশবান্ধব ব্যবসানীতি প্রনয়ণ করতে হবে, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার্থে সরকারকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বে ফাস্ট-ফ্যাশনের জন্য শ্রমিকদের ঝুঁকিপুর্ণ কাজ বন্ধ করার মাধ্যমে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ তৈরি করতে হবে, পরিবেশ দূষণের ফলে শ্রমিকরা যেসব স্বাস্থ্যহানির স্বীকার হচ্ছেন তা রোধকল্পে সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ সময় সমাবেশে ছিলেন সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, আরএমজি ফোরাম, বিভিন্ন কারখানার ইউনিয়নের শ্রমিক নেতাসহ আওয়াজ ফাউন্ডেশনের কর্মীরা।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘প্লাস্টিক দূষণ সমাধানে সামিল হই সকলে।’









