চটকদার বিজ্ঞাপন না দেওয়াসহ চারটি শর্তে রাজধানীর বাড্ডা থানায় দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ডটকম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা মো. রাসেলকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
তার আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৬ জুন) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করীম।
রাসেলের জামিনের বিষয়ে আদালতের রায়ে উল্লেখ করা চারটি শর্ত হলো— ১. আসামিকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে; ২. আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশের বাইরে যাওয়া যাবে না; ৩. ১০০ টাকার পণ্য ৫০ টাকায় বিক্রির জন্য কোনও ধরনের বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করা যাবে না; এবং ৪. আসামি প্রতি মাসে একবার করে অধস্তন আদালতে হাজির হবেন এবং আদালতে লিখিতভাবে জানাবেন তিনি নতুন করে আর কোনও প্রতারণামূলক অপরাধে জড়াননি। নিম্ন আদালত সেই বিবেচনায় আসামির হাজিরার তারিখ নির্ধারণ করবেন। নির্ধারিত তারিখে হাজির হতে ব্যর্থ হলে আসামির জামিন বাতিল করা হবে।
আদালত তার রায়ে পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেছেন, মিডিয়ার কারণে ইভ্যালি ও ইভ্যালির মামলার বিষয়টি বহুল আলোচিত হয়েছে। প্রশাসনিক আইনের দৃষ্টিতে তিন ধরনের পক্ষপাত রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো মিডিয়া পক্ষপাত, যা প্রকাশিত পক্ষপাত। মিডিয়া পক্ষপাত স্বীকৃত পক্ষপাতে পরিণত হয়েছে। মিডিয়ার পক্ষপাতটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে (ক্রেতাদের) প্রভাবিত করে। তবে বিচারের ক্ষেত্রে পক্ষপাতের কোনও সুযোগ নেই। পক্ষপাত ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। মিডিয়ার কারণে জনমনে আগে থেকে ধারণা সৃষ্টি হয়। সেই ধারণার ভিত্তিতে আদালত বিচার করতে পারেন না। আদালত তা গ্রহণ করতে পারেন না। আদালত বিচার করেন মামলার নথি দেখে, আইন দেখে ও ন্যাচারাল জাস্টিস অনুসরণ করে। মিডিয়ার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নয়। এই মামলায় বাদীর দাবি করা টাকার বিপরীতে আসামি চেক ফেরত দিয়েছেন। তার পাওনা মিটিয়ে দিয়েছেন।
এর আগে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির গ্রাহক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় বলা হয়, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইভ্যালি থেকে ইলেকট্রনিক পণ্য কেনার জন্য বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ২৮ লাখ টাকা পাঠান অভিযোগকারী। ইভ্যালির অর্ডার দেওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার কথা থাকলেও ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি তা পাননি।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার দাস গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরে গত ২ মার্চ ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, প্রতারণার দায়ে ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মো. রাসেল তার স্ত্রীসহ গ্রেফতার হন। ওই দিন বিকাল পাঁচটার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে তার স্ত্রী জামিনে মুক্তি পান।









