সংসদে উত্থাপিত হয়েছে ‘অত্যাবশ্যক পরিষেবা বিল ২০২৩’। এর মধ্য দিয়ে প্রতিবাদের শেষ অবলম্বন ধর্মঘটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এমন মন্তব্য করে এই বিল প্রত্যাহার না করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
বৃহস্পতিবার (৮ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাদের হাওলাদার বলেন, ‘নিম্ন মজুরি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের অভাব, শ্রম আইনের অগণতান্ত্রিক ধারা, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে প্রতিবন্ধকতা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, আর ক্ষতিপূরণের নিম্নহারের কারণে শ্রমজীবীদের জীবনে দুর্দশার শেষ নেই। এই সময়ে নতুন করে সংসদে উত্থাপিত হয়েছে ‘অত্যাবশ্যক পরিষেবা বিল ২০২৩’। এর মধ্য দিয়ে প্রতিবাদের শেষ অবলম্বন ধর্মঘটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার।’
তিনি আরও হাওলাদার বলেন, ‘ধর্মঘটের অধিকার একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের দেশে দেশেও সড়ক, রেল, বিমান ধর্মঘট হয়েছে। সংবিধান, আইন, আইএলও কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক বিবি-বিধান সবখানেই শ্রমিকদের ধর্মঘটের অধিকারের স্বীকৃতি আছে। সাধারণত শ্রমিকরা বা তাদের সংগঠনগুলো পাওনা আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে বাধ্য হয়। আলাপ-আলোচনার সব দরজা বন্ধ হলেই কেবলমাত্র তারা ধর্মঘট আহ্বান করে থাকে। প্রতিবাদের এই সর্বশেষ অধিকার কেড়ে নেওয়ার অর্থ হলো— শ্রমিকদের ওপর বিনা বাধায় নিপীড়নের অধিকার সম্প্রসারিত হওয়া।’
কাদের বলেন, ‘আমদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এই আইনের দোহাই দিয়ে শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের আন্দোলন এবং সংবিধান ও শ্রম আইন স্বীকৃত অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে। এই বিল আইনে পরিণত হলে, তা মালিকদের সুরক্ষা এবং শ্রমিকদের ভীতি প্রদর্শন ও শাস্তি প্রদানের হাতিয়ারে পরিণত হবে। এটি শুধু ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারকে সংকুচিত করবে তাই নয়, শ্রমিকদের আইনসঙ্গত আন্দোলনের পথও রুদ্ধ করবে। স্কপ এই বিল বা আইনকে মেনে নিতে পারে না।’
বিলটি সম্পর্কে সরকারের কাছে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে জানিয়ে তিনি আর বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে শ্রম বিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে আমাদের আপত্তির বিষয়টি উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছি। শ্রম প্রতিমন্ত্রীর কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতেও আমরা এই বিল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি। সংসদ অধিবেশন শুরুর দিনে ৩১ মে আমরা বিক্ষোভ করেছি। আগামী ১৩ জুন দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবো। এর পরেও যদি ‘অত্যাবশ্যক পরিষেবা বিল ২০২৩’ প্রত্যাহার না হয়, তাহলে আমরা সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করতে বাধ্য হবো।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হক আমিন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।








