বইমেলার বাকি আছে আর মাত্র এক সপ্তাহ। তাই এখন বইয়ের ক্রেতাদের মধ্যেও বেড়েছে ব্যস্ততা। মঙ্গলবার মিজান পাবলিশার্সের সামনে বেশ ব্যস্ততার সাঙ্গে বই প্যাক করতে দেখা গেল এক বিক্রয় প্রতিনিধিকে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতা লিস্ট দেখে একটি একটি করে বইয়ের নাম বলছেন আর সেগুলো খুঁজে বের করে দাম দেখে প্যাক করছেন বিক্রেতা। হাতের কাজ শেষে তিনি বলেন, ‘এখন আর ঘুরে-ঘুরে বই দেখছেন না কেউ। পাঠকরা স্টলে আসছেন আর লিস্ট ধরে কিনছেন তাদের পছন্দের সব বই।’
অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৩তম দিনে দেখা গেছে প্রায় প্রতিটি স্টলের সামনেই রয়েছে ক্রেতাদের ভিড়। শুরুর দিনগুলোর তুলনায় বই উল্টে-পাল্টে দেখার পরিবর্তে এখন বই কিনতেই বেশি দেখা যাচ্ছে পাঠকদের।
রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে মেলায় এসেছেন ড. ইসমাইল হোসেন ও আনজুমুন আরা অ্যানি দম্পত্তি। আগামী প্রকাশনীর সামনে কথা হয় তাদের সাথে। ড. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘মেলায় এর আগে একবার এসে বই দেখে গেছি। আজকে এসেছি বই কিনতে। পছন্দের বইয়ের মধ্যে গল্পের বই-ই বেশি আছে। সেগুলোই কেনার চেষ্টা করছি আজ।’
মেলার শেষের দিকে এসে কোন ধরণের বই কিনছেন পাঠকরা জানতে চাইলে আহমদ পাবলিশার্সের বিক্রয় প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বিক্রির দিক থেকে এখন পর্যন্ত গল্প, উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধ ও শিশু সাহিত্যের বইগুলোই বেশি হচ্ছে। যেগুলোর বেশিরভাগই পাঠকরা আগে কেনার জন্য নির্বাচন করে আসছেন।’
অন্যপ্রকাশের সামনে আসাদগেট থেকে আসা নাদিয়া মেহজাবিনের হাতে দেখা গেল তার কেনা ৪টি বইয়ের মধ্যে ৩টিই হুমায়ূন আহমেদের লেখা। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ আমার অন্যতম প্রিয় একজন লেখক। এবারের মেলায় তার নতুন বই নেই। কিন্তু তার লেখা কয়েকটি বই এখনও আমার পড়া হয়নি। সেগুলোর মধ্যেই তিনটি কিনেছি আজ।’
নতুন বই
মঙ্গলবার মেলায় মোট নতুন বই এসেছে ৯৩টি। এরমধ্যে গল্প ১৪টি, উপন্যাস ১৯টি, প্রবন্ধ ৪টি, কবিতা ২৭টি, ছড়া ৫টি, শিশুসাহিত্য ১টি, জীবনী ৩টি, রচনাবলি ১টি, ভ্রমণ কাহিনী ২টি, ইতিহাসভিত্তিক ৪টি, রাজনীতি বিষয়ক ১টি, অনুবাদ ১টি ও অন্যান্য ধরনের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১০টি।
আলোচনা অনুষ্ঠান
মেলার ২৩তম দিন বিকেল ৪টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মোহাম্মদ নাসির আলী জন্মশতবার্ষিকী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম। আলোচনায় অংশ নেন কবি আসাদ চৌধুরী, শিশুসাহিত্যিক লুৎফর রহমান রিটন এবং শিশুসাহিত্যিক কাইজার চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন লেখক গবেষক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।
আলোচকবৃন্দ বলেন, বাংলা শিশুসাহিত্যে মোহাম্মদ নাসির আলীর অবদান অবিস্মরণীয়। আজ আমাদের শিশুসাহিত্য যে বিপুলতা ও বৈভবের অধিকারী তার নেপথ্যে নাসির আলীর ভূমিকা অসামান্য। এদেশের শিশুসাহিত্যের ভিত মজবুত করতে তিনি বিচিত্র শাখায় কাজ করেছেন।
২৪তম দিনের অনুষ্ঠানসূচি
বুধবার মেলার ২৪তম দিন বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ও মান উন্নয়নে সমস্যা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন লেখক গবেষক আবুল মোমেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন কাজী ফারুক আহমেদ, মনজুর আহমদ এবং শাহিনুর রহমান। সভাপতিত্ব করবেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.ফারজানা ইসলাম।
এছাড়া প্রতিদিনের মত সন্ধ্যায় মূলমঞ্চে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
/এসআর/এফএস/








