গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করার অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন একজন আইনজীবী। মো. জিশান মাহমুদ নামে এই আবেদনকারী নিজেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের উপ-আইন সম্পাদক হিসেবে আবেদনে উল্লেখ করেছেন।
রবিবার (৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর দেওয়া আবেদনে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৯৬ ধারার বিধান মোতাবেক পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ১২৩ ক/১২৪৫/৫ ধারায় নুরুল হক নুর ওরফে ভিপি নুরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী মামলা রুজু করার জন্য সরকারের অনুমতি চান তিনি।
আবেদনে তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন নিয়মিত আইনজীবী। গত ৩ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারি, বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ নামে তথাকথিত রাজনৈতিক দলের সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ওমরাহ হজ করার কথা বলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে যান। সেখানে অস্বীকৃত ইসরাইল রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার উৎখাতের দেশবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে ওই সংবাদকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা প্রপাগান্ডা বলে নুরুল হক নুর তা বারবার উড়িয়ে দেন। কিন্তু বিগত ২২ জুন ঢাকার ফিলিস্তিন দূতাবাসে রোহিঙ্গাদের জন্য ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) খাদ্য সহায়তা বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান সাংবাদিকদের অবহিত করেন, ‘গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর মোসাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মোসাদের সঙ্গে বৈঠক বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। যারা মোসাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, তারা নেতা হতে পারেন না।’
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। গত ৮ জুলাই সময় টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অস্বীকৃত ইসরাইল রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদি স্বীকার করেন, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুবাইয়ের সিটি সেন্টারে অবস্থিত স্টার বাকস কফি শপে ৩ ঘণ্টার বৈঠক করে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে জিততে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য মেন্দি এন সাফাদির সাহায্য চান নুর। নুর ক্ষমতায় এলে ইসরাইলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দেন।
ইহুদিদের সমর্থন পেতে নুরুল হক নুর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী মানুষকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। যা বাংলাদেশের জনগণের প্রতি অপমানজনক, অগ্রহণযোগ্য এবং তার অধীকৃত ইসরাইল রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠক বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের গভীর ষড়যন্ত্রের অশুভ অভিপ্রায়ে করা হয়েছে। যা রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকিস্বরূপ বিধায় নুরুল হক নুর ওরফে ভিপি নুর দণ্ডবিধির ১২৩ ক / ১২৪ ক/৫০৫ ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বিধায় বাংলাদেশের সংবিধানের প্রতি আস্থাশীল একজন আইনজীবী তথা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও আদর্শে উজ্জীবিত দেশপ্রেমিক বাঙালি হিসেবে নুরুল হক নুর ওরফে ভিপি নুরের বিরুদ্ধে উপরোক্ত ধারায় মামলা করতে আগ্রহী।
যেহেতু, ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৯৬ ধারার বিধান মোতাবেক রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আমলে নেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন, তাই আপনার নিকাছে আবেদন করছি নুরুল হক নুর ওরফে ভিপি নুরের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার জন্য অনুমোদন প্রদান করে বাধিত করবেন।
মামলার অনুমতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনও তথ্য জানানো হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে আইনজীবী মো. জিশান মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন দেওয়ার পর তাকে জানানো হয়েছে—পরবর্তীকালে অনুমতির বিষয়টি জানানো হবে।









