পুরান ঢাকায় ছন্দা ফার্মেসি নামে একটি দোকানে ওষুধের দাম তিন গুণ বেশি রাখার অভিযোগ জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী। ওষুধের দাম বেশি রাখা হয়েছে কেন, ভুক্তভোগীরা বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে জানতে এলে দোকানি দোকানে তালা মেরে পালিয়ে যান।
রবিবার (২৩ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা ন্যাশনাল হাসপাতালের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ শাওন বলেন, আমার আম্মু ঢাকা ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। ডাক্তার আম্মুর জন্য ডিএনএস স্যালাইন সাজেস্ট করেছে, যার মূল ১০০ টাকা। ছন্দা ফার্মেসির দোকানদার ১০০ টাকার স্যালাইনের দাম ৩০০ টাকা রেখেছে। স্যালাইনের গায়েও লেখা ছিল এই দাম। আমি নেওয়ার সময় খেয়াল করিনি।
পরে যখন দেখলাম, তখন এসে বেশি দাম নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি আমার কথা এড়িয়ে যান। একপর্যায়ে আমার সঙ্গে তর্কবিতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, আমি যখন আমার ক্যাম্পাসের বন্ধুবান্ধব নিয়ে এখানে এসেছি, তখন দোকানদার তার স্টাফকে রেখে পালিয়ে গেছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেবো। কিন্তু ওই দোকানদার এখন যুবলীগের এক নেতাকে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য পাঠিয়েছে। ইতিমধ্যে আমি ভোক্তা অধিকারে ফোন দিয়েছি এবং তাদের কথা অনুযায়ী অনলাইনে লিখিত অভিযোগ করেছি। আমি আশা করছি এর সঠিক বিচার পাবো।
এ সময় কয়েকজন ভুক্তভোগী এমন প্রতারিত হওয়ার কথা জানান। তাদের একজন মো. মনির। তিনি বলেন, মোল্লা মেডিসিন কর্নার থেকে আমার ছেলের জন্য গতকাল একটা স্যালাইন নিয়েছি ৬০ টাকা দিয়ে। আজ একই স্যালাইন নিতে আসার পর দোকানদার ১০০ টাকা দাম নিয়েছে। পরে আমি দোকানদারকে বলার পর সে আমাকে বললো, দাম বেড়েছে। আশপাশে কোনও দোকানে এই স্যালাইন নেই। আমি মিটফোর্ডের ওখান থেকে এনেছি। আমি যখন বললাম পাশের দোকানে তো আছে, তখন তিনি আমাকে আরও ১০ টাকা দিয়ে বলে, আমি নিষেধ করলে আপনাকে কোনও দোকানেই ওষুধ দেবে না।
মো. শরীফ নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ডাক্তার আমাকে তিন দিনের ওষুধ নেওয়ার জন্য বলছে। আমি গত পরশু এই দোকানে (ছন্দা ফার্মেসি) আসার পর বললো, এটা নাকি খুচরা বিক্রি করা যাবে না। পরে বাধ্য হয়ে আমাকে ১ হাজার ৩২০ টাকা দিয়ে এক সপ্তাহের ওষুধ কিনতে হয়েছে। এক দিন পর ইসলাম মেডিক্যাল হল নামের এক দোকানে দেখি সেইম ওষুধের দাম ৭৫০ টাকা।
তিনি বলেন, পরে আমি এই দোকানে বেশি দাম নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে বলে দাম বেশি ছিল, এখন কমেছে। এক দিনের ব্যবধানে নাকি ৫০০ টাকা কমেছে ওষুধের দাম। আমার আর কিছু বলার ছিল না।
অসাধু ব্যবসায়ীদের এ রকম হয়রানি থেকে সাধারণদের উদ্ধারে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান ভুক্তভোগীরা।









