সুপ্রিম কোর্টে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। দুপক্ষের মুখোমুখি বিক্ষোভ-মিছিল চলাকালে সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদকের (আওয়ামী লীগ) কক্ষ ভাঙচুর করেছেন বিএনপির আইনজীবীরা। তবে এ বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন দুপক্ষের আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে সভাপতি-সম্পাদকের কক্ষের সামনে এ ঘটনার ঘটে।
জানা গেছে, আজ বেলা দেড়টায় সুপ্রিম কোর্ট বারের দক্ষিণ হলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৯ বছরের দণ্ড ও তারেকের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের তিন বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। সংবাদ সম্মেলন শেষে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় তারা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
এদিকে বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরাও সুপ্রিম কোর্টে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে সভাপতি-সম্পাদকের কক্ষের সামনে আওয়ামীপন্থি ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মিছিল মুখোমুখি হয়। এ সময় দুপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।
একপর্যায়ে বিএনপির আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক আব্দুন নূর দুলালের কক্ষ ভাঙচুর করেন এবং তার নেমপ্লেট খুলে ফেলেন। এরপর সভাপতির কক্ষের নেমপ্লেটও খুলে ফেলা হয়। পর্যায়ক্রমে বর্তমান কমিটির (সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থিত) অন্য সদস্যদের নামফলক খুলে ফেলেন বিএনপির আইনজীবীরা। একই সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত হওয়া ফায়ার এক্সটিংগুইসার দিয়ে আইনজীবীদের চোখে-মুখে স্প্রে করা হয়। এতে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা আহত হন।
পরে সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুন নূর দুলাল সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, বিএনপিপন্থি আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল, রুহুল কুদ্দুস কাজল ও গাজী কামরুল ইসলাম সজলের নেতৃত্বে বিএনপির অন্য আইনজীবীরা আমাদের আইনজীবীদের ওপর হামলা করেছে। সমিতির সভাপতি-সম্পাদকের কক্ষ ভাঙচুর করেছে তারা। এতে আমাদের কয়েকজন আইনজীবী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাই এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে পাল্টা অভিযোগ করে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন করে বের হওয়ার সময় আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা আমাদের এক নারী আইনজীবীর ওপর হামলা করেন। তাকে উদ্ধার করতে গেলে তারা আরও মারমুখী আচরণ করেন। একপর্যায়ে তারা আমাদের ওপর ফায়ার এক্সটিংগুইসার স্প্রে করে আমাদের অন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল। এ ছাড়া তারা নিজেরা সম্পাদকের কক্ষ ভাঙচুর করে আমাদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। এসবই তারা পরিকল্পনা মাফিক করছেন। তাই এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও তিনি জানান।
দিনভর হামলা ও ভাঙচুরের পর বিএনপির আইনজীবীরা শাহবাগ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা শাহবাগ থানায় ১৮ জন আইনজীবীর নামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করে এজাহার করেছেন।









