দেশের বিভিন্ন জায়গায় গার্মেন্টস বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছে শিল্প পুলিশ। যদিও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এলাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় কাজ করার সুযোগ নেই শিল্প পুলিশের। ডিএমপি এলাকায় গার্মেন্টস কেন্দ্রিক সমস্যা, শ্রমিক-মালিক সমস্যা, বেতন-বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের রাস্তা অবরোধের মতো ঘটনা দেখভাল করতে হয় সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের। অনেক ক্ষেত্রে তারা সমস্যা সম্পর্কে জানতে পারেন না। এ কারণে ডিএমপি এলাকায় গার্মেন্টস খাতের নিরাপত্তায় কাজ করতে শিল্প পুলিশকে অনুমতি দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।
বিষয়টি আমলে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত আসবে বলেও মনে করছেন গার্মেন্টস মালিকরা। এ খাতের ব্যবসায়ী সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ সমন্বিতভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে অনুমতির আহ্বান জানিয়েছে।
ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা জানান, ডিএমপি এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৫০টি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সামাজিক, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয় দেখভাল করেন। এ জন্য অনেক সময় তারা গার্মেন্টস খাতের সমস্যা সম্পর্কে যথাযথভাবে জানতে পারেন না। থানার দায়িত্বরত অন্য সদস্যরা মামলা তদন্ত, নাগরিকদের নিরাপত্তা, সড়কের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকেন। সব মিলিয়ে গার্মেন্টস সেক্টরে নিরাপত্তা দেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়। এসব কারণে ডিএমপি এলাকায় শিল্প পুলিশ চান গার্মেন্টস সংশ্লিষ্টরা।
বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় শিল্পাঞ্চলগুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে শিল্প পুলিশ। ডিএমপি এলাকায় শিল্প পুলিশকে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। সেখানে সব স্টেক হোল্ডাররা অংশ নিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘ডিএমপি এলাকায় অনেক শিল্প-কারখানা, গার্মেন্টস রয়েছে। এগুলোতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। রাস্তা অবরোধের মতো ঘটনাও ঘটে। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে এসব বিষয়ে ডিএমপি এলাকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সেভাবে নজর দেওয়ার সুযোগ পান না। ঘটনা ঘটলে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আলোচনা কিংবা আইনি ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়। এর আগে ডিএমপির থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার মতো সেরকম কোনও বিষয় দেখা যায় না। বিষয়গুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিটিংয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবনার বিষয়টি এরইমধ্যে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যে বিষয়টি সব পক্ষের জন্য স্থিতিশীল হবে সে অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে। বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।’
শিল্প পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিল্পাঞ্চল এবং গার্মেন্টস খাতের নিরাপত্তায় শিল্প পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। সরকার যদি মনে করে ডিএমপি এলাকায় শিল্প পুলিশের কার্যপরিধি বাড়াবে– নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করবো। গার্মেন্টস খাতের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বিষয়ে দেখভালের জন্য এ ক্ষেত্রে নতুন একটি অফিস করতে হবে ডিএমপি এলাকায়।’









