মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’ নামে একটি নতুন সংগঠনের ১০ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন (সিটিটিসি)। অভিযানের আগেই ওই সংগঠনের সদস্য ডাক্তার জামিল ও নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিম পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, ফাহিম যশোর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী। তার বাড়ি জেলার কোতোয়ালি উপজেলায়। তার বাবা যশোর জেলায় কর্মরত আইনজীবী আয়ুব খান বাবুল।
ওই সংগঠনের ১০ জন সদস্যকে গ্রেফতারের পর রবিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে সিটিটিসি। সেখানে অংশ নেন ফাহিমের বাবা আয়ুব খান বাবুল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্কুলে পড়ার সময় পড়াশোনাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দক্ষতার স্বাক্ষর রাখা ফাহিম খান (১৭) গত ২৮ জুলাই সকালে কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ রয়েছে। যশোর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে নটরডেম কলেজে ভর্তি হয় ফাহিম। এরপর সে হোস্টেলে থাকতো। প্রথম বর্ষে ভালো ফলাফল করলেও পরে অসুস্থ থাকায় পড়াশোনায় একটা গ্যাপ যায়। ফলে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। এ কারণে সে মানসিকভবে একটু বিষণ্ন ছিল। পিছিয়ে যাওয়ার কারণে পরিবার থেকে একটু চাপ দেওয়ায় নিজেকে আড়াল করে রাখতো সে।’
আয়ুব খান বাবুল বলেন, ‘পারিবারিক চাপ অথবা মোবাইল ফোন বা কোনও ব্যক্তি ও সংগঠনের মাধ্যমে ওই সংগঠনে জড়িয়েছে ফাহিম। সে নিখোঁজ হওয়ার পর ২৮ জুলাই যশোর কোতওয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর তার সন্ধান পেতে গোয়েন্দা পুলিশ ও ঢাকার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমি আপনাদের মাধ্যমে আমি আমার ছেলেকে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
ছেলেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফাহিম তুমি যেখানেই থাকো ফিরে এসো। সরাসরি পরিবার কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এসো।
জানা গেছে, চার ভাই-বোনের মাঝে বড় ফাহিম। সে শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিল।
ছেলের পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে আয়ুব খান বাবুল বলেন, ‘কোরবানির ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এলে তার মুখে দাঁড়ি দেখতে পাই। মাঝে মাঝে নামাজ পড়তো। বাড়ি ছাড়ার আগে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে পরিবর্তন আসে, একাই চলে যায়। তবে যাওয়ার সময় কোনও টাকা-পয়সা নিয়ে যায়নি।’









